দর পতনে উৎপাদন খরচও উঠছে না

এম. মনিরুজ্জজামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : চলতি মওসুমে রাজবাড়ী জেলায় মুড়িকাটা পিয়াজের বাম্পার ফলনেও নতুন পিয়াজের দর পতনে কৃষকের উৎপাদন খরচও উঠছে না। ফলে কৃষকরা রবি মওসুমে হালি পিয়াজ চাষে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আর তাতে হালি পিয়াজের সংকট হবে।

কৃষি সমৃদ্ধ রাজবাড়ী জেলা পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে। দেশে উৎপাদিত মোট পেঁয়াজের ১৪ শতাংশ উৎপাদন হয় এ জেলা থেকে। এ বছর বিঘা প্রতি মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদে চাষীদের সার, বীজ, কীটনাশক, জমি চাষ ও দিনমজুরসহ খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে। বিঘা প্রতি উৎপাদন হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ মণ। মান ভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজের বর্তমান পাইকারী বাজার দর ১০০০ টাকা থেকে ১১০০ টাকা। সেই হিসেবে বিঘা প্রতি উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করে খরচ উঠছে না। যার ফলে কৃষকদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছরে জেলার ৫টি উপজেলায় এ বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে কম চাষ হয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের ঘিকমলা এলাকার পেঁয়াজ চাষী হাবিবুর সরদার বলেন, আমি এ বছর এক একর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ লাগিয়েছিলাম। বীজ কিনেছি ২ হাজার ৫০০ টাকা মণ। সব মিলে প্রতি বিঘায় খরচ পড়েছে বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। বর্তমানে পেঁয়াজের যে বাজার দর তাতে আমার বিঘা প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে লোকসান হবে। এত কষ্ট করে টাকা খরচ করে পেঁয়াজ লাগিয়ে যদি দামটাই না পাই তাহলে আমরা চলবো কীভাবে?

মুকুল সরদার নামে আরেক পেঁয়াজ চাষী বলেন, আমি ৩০ শতক জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়েছিলাম। আমার প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে পেঁয়াজের যে বাজার দর তাতে খরচ উঠতে পারে। আমাদের পেয়াজ নাবি তাই উঠতে আরও সময় লাগবে। তত দিনে মনে হয় এই দাম থাকবে না। দুশ্চিন্তায় আছি।

পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের পেঁয়াজ চাষী রহমান মন্ডল বলেন, এ বছর শুরু থেকেই মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম ভালো। প্রতি মণ ১৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে শুরুতে। তবে এখন সেটি ১০০০ থেকে ১১০০ টাকায় নেমে এসেছে। তারপর আবার পাইকারী বাজারে পেঁয়াজ বেঁচতে গেলে ধলতার জন্য মণ প্রতি ৪ কেজি করে বাদ যাওয়ায় আরও বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। অর্থাৎ এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করলে ৩৬ কেজির দাম পাচ্ছি।

আরেক পেঁয়াজ চাষী ইদ্রিস মিয়া বলেন, সরকার আমাদের সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদান করলে এবং পেঁয়াজ আমদানী বন্ধ করলে আমরা সাধারণ চাষীরা পেঁয়াজের ভালো দাম পাবো। অন্ততঃ উৎপাদন খরচটা তো ওঠাতে পারবো।

রাজবাড়ীর বড় বাজারে পাইকারী পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছে, মৌসুমের শুরুতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজার ভালো ছিলো। তবে সময়ের সাথে কিছুটা কমেছে পেঁয়াজের দাম। বর্তমানে পাইকারী বাজারে ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা মণ দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। আমদানী করা পেঁয়াজ আসলে মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস.এম শহীদ নূর আকবর বলেন, চলতি বছর এ জেলায় ৫ হাজার হেক্টরের ওপরে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হয়। এর বেশীর ভাগই উৎপাদন হয় গোয়ালন্দ ও বালিয়াকান্দি উপজেলাতে।