এম. মনরিুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : ঈদুল আজহায় কোরবানির সবচেয়ে বেশি চাহিদা হলো দেশি জাতের পশু। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এবার রাজবাড়ীতে আট হাজার খামারে বিভিন্ন স্থানে খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে সাড়ে ৩৬ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- ষাঁড়, বলদ, গাভী (বাচ্চা উৎপাদনে অক্ষম), ছাগল, ভেড়া ও মহিষ। রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহায় রাজবাড়ী জেলায় সাড়ে ৩৬ হাজার পশু কোরবানির সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, ভালো দামের আশায় খামারিরা কোরবানির বাজার ধরার জন্য পশু লালন-পালন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ শখের বশে, কেউ বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে, কেউ সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে এসব খামার গড়ে তুলছেন।

রাজবাড়ী জেলার মধ্যে নতুন নগর, তালতলা, জঙ্গল, চাদপুর ও সদর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে খামারের সংখ্যা বেশি। এসব এলাকার গ্রামে গ্রামে ঘুরে ও হাট থেকে পশু কেনা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাটগুলোতে গরু ওঠতে শুরু হয়েছে।

আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে কোরবানির জন্য এখন থেকেই গরু কিনে মজুদ শুরু করেছেন তারা। কোরবানিতে গরু বাজারজাত করে ভালো আয় করতে পারেন তাই এখনই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবার কােরবানির জন্য দেশি জাতের বলদ গরুর চাহিদা বেশি রয়েছে বলে গরুর ব্যপারীরা জানান।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নতুন নগর এলাকার জান এগ্রোর ম্যানেজার মো. আবুল কাশেম বলেন, আমাদের ফার্মে ৪৫টি গরু রয়েছে। ইতিমধ্যে ৮টি গরু লাভে বিক্রি করে দিয়েছি। বাকী এসব গরুর পরিচর্যা করে ক্রেতার মনের মত করে তুলতে, সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। অনেকে ইতোমধ্যে ফার্মে এসে গরু কিনে এখানে রেখে যাচ্ছেন। কোরবানির সময় নিয়ে যাবেন। ভারতীয় পশু দেশে না ঢুকতে দিলে, ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

খামারিরা কোরবানির পশু বিক্রির জন্য, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গরুকে মোটাতাজা করার জন্য কোন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ বা ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে না বলে দাবি করেন খামারিরা। মাঠের সবুজ ঘাস কেটে খড়ের সঙ্গে মিশিয়ে, গরুকে খাওয়াচ্ছেন। আর পশুকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে খামারে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. ফজলুল হক বলেন, খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে রাজবাড়ীতে জেলায় এবার ৩৬ হাজার ৫১টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চাহিদার তুলনায় পশুর ঘাটতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার গবাদি পশু একটু বেশি আছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আমরা দেশের বিভিন্ন হাটে রফতানি করতে প্রস্তুত রয়েছি।

চাহিদার তুলনায় স্থানীয় খামারগুলোতে গরু বেশি থাকায় এবার অন্য কোথাও থেকে রাজবাড়ী জেলায় পশু আনতে হবে না বলে জানান তিনি।