তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সিলেট থেকে : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের দফা এক, দাবি এক- এ সরকারের পদত্যাগ। শেখ হাসিনার পদত্যাগ। আর এর ফয়সালা হবে রাজপথে। রাজপথেই সরকারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার করবো।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলা দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। গণতন্ত্র ফিরে পেতে আপনারা নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন, এই যুদ্ধ গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার যুদ্ধ। ভোটের অধিকার ফিরে পাবার যুদ্ধ। এই যুদ্ধ মানুষের মৌলিক অধিকারের যুদ্ধ।

তিনি বলেন, এই সিলেট থেকেই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেখান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে। আজকে এই স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র ফেরাতে এই সিলেট থেকেই আবার যুদ্ধ শুরু হলো।

সিলেটে বিভাগীয় গণসমাবেশে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শনিবার (১৯ নভেম্বর) সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ৭ম বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘গত ১৪ বছর ধরে এই সরকার (আওয়ামী লীগ) দেশকে একটি তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। এই সরকার যা যা করেছে তার বিচার হবে জনতার আদালতে হবে।’

বিকেল ৪টা ৩৫ মনিটে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দিতে মঞ্চে ওঠেন মির্জা ফখরুল। প্রায় ২৪ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বলেন, সিলেটের ইতিহাস যুদ্ধজয়ের ইতিহাস। এই যুদ্ধে অবশ্যই আমরা জয়লাভ করবো। হযরত শাহজালাল পূণ্যভূমিতে অন্যায় জুলুমের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন। এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি আপনাদের দামান (জামাই) জনাব তারেক রহমান আপনাদের গর্ব, এটা বলেন না কেন।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) বেলা ১১টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা ময়দানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয় এই গণসমাবেশ।

সমাবেশ মঞ্চের ঠিক মাঝখানে চেয়ার ফাঁকা রেখে চেয়ারে খালেদার একটি ছবি রাখা হয়। খালেদা জিয়ার চেয়ারের ডানের চেয়ারে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আর বামের চেয়ারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চেয়ারে বসেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন আজ থেকে সাত শত বছর আগে, একটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই শ্রীহট্টে এসেছিলেন হযরত শাহজালাল (রঃ) এর পর থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদ সিলেট থেকেই শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ভোট চোরের কাহিনী শুনে দেশ-বিদেশে ছিঃ ছিঃ করছে। নিজেরা মুক্তিযোদ্ধার দল বলে মুখে ফেনাতুলে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক সিলেটের কৃতি সন্তান এম এ জি আতাউলগণী ওসমানীকে তারা স্মরণ করে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদ গয়েশ্বর চন্দ্র রায় শেখ হাসিনাকে চ্যালেঞ্জ চুঁড়ে দিয়ে বলেন, সাহস থাকলে পদত্যাগ করে নির্বাচনে আসেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জাইমার সাথেই আপনি জামানত হারাবেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার রাষ্ট্রীয় কুসাগর থেকে টাকা লুট করে দলীয় কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আমাদের কোন সমাবেশ বানচাল করতে সরকার তার পেটুয়া বাহিনী দিয়ে সমাবেশ ব্যর্থ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণ তার জবাব দিয়েছেন। তিনি ওবায়দুল কাদেরকে ঘরের ভেতরের খেলোয়ার উল্ল্যখ করে বলেন, ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচনে আসুন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা ভোটের মাধ্যমে আপনাদের সাথে খেলবো। টাকা পাচারের কারণে ডলার সংকট দেখা দিয়েছে। রিজার্ভ নেই যে কারনে এলসি খোলার সামর্থ নেই। ঋনের টাকার শোধ দেযার টাকাও কোষাগারে নেই।

সিলেট বিএনপি নেতা ইমরান আহমেদ চৌধুরী, মিফতাহ্ সিদ্দিকী, কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীমের সঞ্চালনায় অন্যানের মাঝে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় দলীয় নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সৈয়দ মোজাম হোসেন আলাল, সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, ইলিয়াস আলীর পত্নী তাহসিনা রুশদি লুনা, ড.এনামুল হক চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, নাসের রহমান, জিকে গৌছ, কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার ইয়াসমিন মনি, সাম্মি আক্তার, আফরোজা আব্বাস, শাম্মি আক্তার, ইসরাক হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর রহমান চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমেদ টুকু, এডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাজীব হাসানসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বত্তব্য রাখেন।