রাঙামাটি প্রতিনিধি : ফিল্মি স্টাইলে টিকাদারকে জিম্মি করে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের টেন্ডার সিডিউল ছিনতাই করেছে সন্ত্রাসী বাহিনী। সোমবার সকালে কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। রাঙামাটিতে সন্ত্রাসী কর্তৃক টেন্ডার ছিনতাই’র ঘটনা এটিই প্রথম।

মেডিকেল কলেজ ও ক্ষতিগ্রস্থ টিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক জয়ন্ত লাল চাকমা জানিয়েছে, আউট সোর্সিং’র মাধ্যমে মেডিকেল কলেজ’র জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ২২ জন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে ই-টেন্ডার আহবান করার নিয়ম থাকলেও কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণ সেই নিয়ম পালনে ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারপরও সনাতন পদ্ধতির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিধি মোতাবেক অপারাপর টিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মতো সিডিউল ক্রয় করেন তিনি।

মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ’র কাছ থেকে টিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বমোট ৭টি সিডিউল ক্রয় করে।

প্রতিদন্দ্বিতামূলক এই টেন্ডার কার্যক্রমে যথাযথ নিয়মে তিনি তার অংশিদারকে নিয়ে সোমবার সকাল ৮টার সময় সিডিউল দাখিলের জন্য মেডিকেল কলেজে গেলে, প্রতিদন্দ্বী একটা টিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে সন্ত্রাসীরা টিকাদারী প্রতিষ্ঠান “রাজদ্বীপ ট্রেড সার্ভিসেস লিঃ’র ব্যাবস্থাপনা পরিচালক জয়ন্ত লাল চাকমা’র টেন্ডার সিডিউলটি জোরপূর্বক ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ ফোন করে সহায়তা প্রত্যাশা করেন। একই সময়ে তিনি রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করে টেন্ডার কর্যক্রম স্থগিতের আবেদন জানান।

৯৯৯’র ফোনের কারণে পুলিশ দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে।

সংগৃহীত সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে টেন্ডার ছিনতাই’র সত্যতা মিলেছে বলে পুলিশ ও মেডিকেল কলেজ ককর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছে, বিক্রিত ৭টা সিডিউল’র মধ্যে মাত্র ৩ টা সিডিউল দাখিল করেছে।

উল্লেখ্য যে, তিন পার্বত্য জেলায় আউট সোর্সিং’র মাধ্যমে জনবল সরবরাহে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান রাজদ্বীপ ট্রেড সার্ভিসেস লিঃ। আর প্রতিদন্ধী প্রতিষ্ঠানগুলো তিন পার্বত্য জেলার বাইরের।

সনাতন পদ্ধতির টেন্ডার আহবান করলেও যথাযথ নিয়ম না মানার অভিযোগ তুলে টিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবীর সাথেরএকমত প্রকাশ করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ টেন্ডার বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করেনি এবং নিরাপত্তা জনিত প্রয়োজনে পুলিশ মোতায়ন’র ব্যাবস্থা নেয়নি। থানায় একটা টেন্ডার বাক্সও রাখেনি। জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে টেন্ডার বাক্স রেখেছে কি না আমাদের জানা নেই। সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে টেন্ডার চিনতাই’র সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।