মুহাম্মদ ইলিয়াস, রাঙামাটি : রূপ বদলানো হ্রদ-পাহাড় আর মেঘ মিতালীর ফুরোমৌন পর্বতের অপরূপ নান্দনিক দৃশ্য দেখার টানে এবং টানা ছুটি ভোগের সুযোগ পেয়ে রাঙামাটিতে পর্যটকদের ভীড়-বাট্টা বেড়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর বেচা-বিক্রিও বেড়েছে। হোটেল মোটেল ও সরকারী বিশ্রামাগার গুলোতে পর্যটকে ঠাসা।

জেলা প্রশাসন, হোটেল মালিক সমিতি ও ট্যুরিষ্ট পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, লম্বা ছুটি, শরতের বৃষ্টি, হ্রদ-পাহাড় আর পাহাড় ছোঁয়া মেঘের টানে রাঙামাটিতে পর্যটকদের ভীড় বাট্টা বেড়ে গেছে। আপাতত ক’দিনের জন্য হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেষ্ট হাউজে বুকিং কমিয়ে দিয়েছে। পার্ক, ঝুলন্ত ব্রিজসহ দর্শনীয় স্থানগুলোয় লোকে লোকারণ্য। কোথাও তীল ধারনের ঠাঁই নেই। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা বানিজ্য বেড়েছে। যানবাহন, ট্যুরিষ্ট বোট, হাউজ বোটগুলোর ব্যবসাও ভালো হচ্ছে। সার্বিক বিবেচনায় পাহাড়ের পর্যটন ব্যবসা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

রাঙামাটি উল্লেখযোগ্য স্পটগুলো হলো, পর্যটন কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রিত হোটেল, মোটেল,ঝুলন্ত ব্রিজ, সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত রিসোর্ট ও পর্যটন কেন্দ্র আরণ্যক, বিজিবি নিয়ন্ত্রিত আরণ্যক রেষ্টুরেন্ট ও ট্যুরিষ্ট স্পট, কাপ্তাইস্থ নৌবাহিনীর পর্যটন স্পট, পুলিশ পরিচালিত পর্যটন কেন্দ্র পলওয়েল, জেলা প্রশাসক পরিচালিত ডিসি বাংলো পার্ক ও রাঙামাটি পার্ক, ব্যাক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা পেদা টিং টিং, ডিভাইন লেক, টুকটুক ইকোলজিকাল ভিলেজে, বরকল উপজেলা পরিষদ পরিচালিত সুবলং ঝর্ণা, বিলাইছড়ি ধুপপানি ঝর্ণা, জুরাছড়ির পদ্মবিল, রাঙামাটি সদরের সর্বোচ্চ পর্বত মেঘ মিতালীর ফুরোমৌন পাহাড় ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি। লম্বা ছুটি পেয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা রাঙামাটিতে ভ্রমনের জন্য ছুটে আসে।

সে কারণে পর্যটন স্পষ্ট, পার্ক, ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের উপছে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুধু মাত্র রাঙামাটি সদর উপজেলায় সরকারী-বেসরকারী ও ব্যক্তিমালিকানার শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ ও বিনোদন কেন্দ্র আছে। কমিউনিটি ট্যুরিজমের দিকেও স্থানীয়রা ধীরে ধীরে ঝুঁকছে। ফলে শহরের বনরূপা, রসুলপুর, আসামবস্তীসহ বিভিন্ন স্থানে ৯/১০টি পরিবার এ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়েছে। পর্যটকের ঢল নামান সাথে সাথে এখানের মানুষের জন্য আয়ের নতুন নতুন সুযোগ তৈরী হচ্ছে।

রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশন’র ব্যাবস্থাপক সৃজন বড়ুয়া বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারনে পরপর দূ’বছর লাভের মুখ দেখেনি পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকলে। এবছর কিছুটা লাভের মুখ দেখছে সবাই। টানা ছুটির কারনে রাঙামাটির পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সকলেই এ বছর লাভের মুখ দেখছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, পাহাড়ের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। এখাত এখন বেশ চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে। রাঙামাটিতে পর্যটক বান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সকলে চেষ্টা করছি।

চট্টগ্রাম ডিভিশন ট্যুরিষ্ট পুলিশ’র এডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিম পিপিএম জানিয়েছেন, হ্রদ বেষ্টিত রাঙামাটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় জলে-স্থলে সমভাবে গুরুত্ব দিয়ে ট্যুরিষ্ট পুলিশকে রাঙামাটিতে কাজ করতে হয়।

এ ছাড়াও সাঁতার জানা ছাড়া কাপ্তাই হ্রদে নামা থেকে বিরত থাকা, সন্দেহজনক কারো সাথে চলাফেরা না করাসহ ট্যুরিষ্টদের নিরাপত্তায় আমাদের কিছু নির্দেশনা রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষনিক সতর্কাবস্থায় রয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ যোগ করেন এ কর্মকর্তা।