মুহাম্মদ ইলিয়াস, রাঙামাটি : রাঙামাটির কাউখালী থেকে অপহৃত ৩ জন ইটভাটা শ্রমমিককে মুক্তিপণ ছাড়াই সোমবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে।

উদ্ধারকৃতরা হলেন- মোসলেম উদ্দিন (৪২), আহসান উল্যাহ (৪৫) ও মোঃ জিয়াউর রহমান জিকু (২৮)। অথচ সন্ত্রাীরা অপহরণের পরপরই মুঠোফোনযোগে অপহৃতদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে ত্রিশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিলো। সমাপ্ত হলো পুলিশি অপারেশন “ডাবুইনন্যাছড়া”।

উদ্ধারকৃতদের দেয়া তথ্য মতে সোমবার বিকেল ৪টায় রাঙামাটি জেলা পুলিশ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে, চাঁদা না পেয়ে কাউখালীর তারাবুনিয়ার ১টি ইটভাটা থেকে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা গত মঙ্গলবার (২৭ ডিসম্বর) রাত আনুমানিক ১টার সম ৩ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এরপর মুঠোফোনে তাদের স্বজনদের কাছে ত্রিশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কাউখালী থানা পুলিশ অভিযোগ পেয়েই ২ সন্দেহভাজন ২ সন্ত্রাসীকে কাপ্তাই লিচুবাগান এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

আটককৃত বান্দরবান জেলার সোয়ালকের রোয়াজা পাড়ার মংলু মারমা’র ছেলে উক্য ওয়াই মারমা (২০) ও খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ির বিনাজুড়ি পাড়ার আথো অং মারমা’র ছেলে ক্য মং মারম (২২)’র দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাপ্তাই সার্কেলের একাধিক টীম মাঠে নামেন।

আভিযানিক টীম প্রযুক্তির ব্যবহার করে অপহৃতদের সোমবার সকালে উদ্ধার ডাবুন্যাছড়া থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উদ্ধারকৃতরা হলেন- চট্টগ্রামের সন্ধীপের মৃত আব্দুর রশিদ’র ছেলে মোসলেম উদ্দিন, নোয়াখালী সুধারামের রহমত উল্লাহর ছেলে আহসান উল্যাহ ও চট্টগ্রামের হাটাজারীর গাজী আবু তাহেরের ছেলে মোঃ জিয়াউর রহমান জিকু। অথচ সন্ত্রাসীরা অপহরণের পরপরই মুঠোফোন যোগে অপহৃতদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে ত্রিশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিলো। পুলিশ অভিযান চালিয়ে কোন প্রকার মুক্তিপণ ছাড়াই তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার প্রাপ্ত ৩ জনকে চিকিৎসা দিয়ে পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশের উদ্ধার অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীরা অপহৃত ৩ জন ইটভাটি শ্রমিককে নিয়ে গভীর অরণ্যের একাধিক জায়গায় স্থান বদল করেছে। ঠিক মতো খেতে দেয়নি। তাদের ওপর শাররীক নির্যাতন চালিয়েছে বলে দাবী করেছে উদ্ধার প্রাপ্তরা। অপহরণের ৫ দিনের মাথায় উদ্ধার পেয়ে ভিকটিমদের চোখেমুখে মুক্তির আনন্দ ফুটে উঠেছে।

উল্লেখ্য, রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার কলমপতি ইউনিয়ন’র তারাবুনিয়াস্থহ ইট ভাটা থেকে গত ২৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১ টার সময় সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে ৩ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে দু’জন ইটভাটা শ্রমিক ও একজন ইটভাটা ম্যানেজার পুত্র।

কাউখালী থানার ওসি পারভেজ অপারেশ সম্পর্কে বলেন, আমাদের ৩০ সদস্যের আভিযানিক টীম দূর্গম পাহাড়ী জনপদে গত ২৭ তারিখ থেকে টানা অভিযান চালিয়েছি। উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাফল্য পেলাম।

প্রেসব্রিফিংয়ে নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ আহমেদ, রাঙামাটি সদর সার্কেল’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহেদুর রহমান, কাপ্তাই সার্কেল’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওশন আরা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আউয়াল প্রমূখ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।