মেহেরপুর প্রতিনিধি : পরোলোকগত একমাত্র ছেলের আত্মার শান্তির জন্য নিজ হাতে সাহরী রান্না করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের খাওয়াচ্ছেন নূরনাহার বেগম।

২০১৬ সাল থেকে তিনি এ কাজ করছেন। এবারও রমজানের প্রথম থেকেই তিনি সাহারী খাওয়ানোর কাজ শুরু করেছেন। চলবে শেষ রমজান পর্যন্ত। রাত ২টা বাজার সাথে সাথে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের রোগী ও রোগীর স্বজনরা থালা-বাটি হাতে করে মূল গেটের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। নূরনাহার যত্ন-সহকারে তার নিজ হাতের রান্না করা খাবার তাদের সরবরাহ করেন।

নাহার ফার্মেসীর মালিক নূরনাহার বেগম গত ৬ বছর ধরে জেনারেল হাসপাতালের রোগী ও রোগীর স্বজনদের বিনামূল্যে সাহরী খাওয়াচ্ছেন। একমাত্র ছেলের আত্মার শান্তি কামনায় এই কাজটি বেছে নিয়েছেন তিনি।

হাসপাতাল পার্শ্ববর্তী দুঃস্থ পরিবারেরও অনেকে আসে সাহরী খেতে। অনেকেই থালা-বাটি করে খাবার নিয়ে যায় আবার কেউ কেউ সেখানে বসে নূরনাহারের দেয়া সাহরী খায়। তিনি পুরো রমজান মাসজুড়ে হাসপাতালের রোগী, রোগীর স্বজন এবং নিকটবর্তী দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করবেন।

নূরনাহার জানান, প্রতিদিন তিনি ২৫০ জন মানুষের মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। তার স্বামী নুরুল ইসলাম মেহেরপুর পিডিবি অফিসে কর্মরত। বিঘা দশেক আবাদী জমি রয়েছে তাদের। আর তিনি নিজে ফার্মেসি ব্যবসা করেন। সাহরীর মেনুতে রাখেন মাংস অথবা মাছ, সাথে চিকন চালের ভাত, ডাল ও একটি সবজি।

সাহরী নিতে আসা ঝর্ণা খাতুন, রশনি আরা, জব্বার উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন জানান, কয়েকদিন ধরে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নূরনাহার বেগম তাদের সাহারী দেয়ার কারণে সাহরীর জন্য চিন্তা করতে হয় না। রোগীদের মাঝে সাহরী বিতরণে নূরনাহারকে সহযোগিতা করেন হাসপাতাল এলাকার আববাস আলী।

নূরনাহার বেগম অশ্রুসিক্ত নয়নে আরো জানান, তার একটি ছেলে ছিল। ২০১৫ সালে সে মারা যায়। পরের বছর থেকে তিনি ছেলের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ছেলের নামে ইফতার আর সাহরী খাওয়ানো শুরু করেন।

তিনি বলেন, আল্লাহতায়ালা তাদের যথেষ্ট দিয়েছেন। জায়গা-জমিও রয়েছে। একটি মাত্র মেয়ে তার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলেটা মারা গেছে, সে বেঁচে থাকলে তারও হক ছিলো। ফার্মেসীটা তার ছেলের জন্য করা হয়েছিলো। ছেলের বাবার সাথে পরামর্শ করে ৬ বছর ধরে তিনি নিজেই ফার্মেসী’র ব্যবসা চালাচ্ছেন। ওই ফার্মেসী থেকে যে আয় হয় তা দুঃস্থদের কল্যাণে ব্যয়ের চেষ্টা করেন তিনি।