আবুল কাশেম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে গতকাল বুধবার সকাল থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছে।

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা দিনভর মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত ও বহিষ্কার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার সোহরাব আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার তারিখ ও রুটিন পিছানো হয়েছে এবং আত্মহত্যা চেষ্টাকারী শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান তুহিনের চিকিৎসার ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

এ ছাড়াও ঘটনা তদন্তের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের নিয়ে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটির প্রধান কাকে করা হয়েছে এবং কতদিনে মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন রেজিষ্টার সোহরাব হোসেন।

অন্যদিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুল লতিফ সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত বা অপসারণ করার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নেই। তবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষামন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে গতকাল বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৩ মূখপাত্র নাজমুল হাসান পাপন, শামীম হোসেন ও আবু জাফর হোসাইন প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার যোগ্য নন। তিনি ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটেই ক্ষান্ত হননি, উপরন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। মানসিক বিকারগ্রস্ত ও উগ্রমেজাজী ওই শিক্ষকের কাছে কোন শিক্ষার্থীই নিরাপদ নয়।

তারা আরও বলেন, শুধু প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি নয়, তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করার সময় ওই বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন কাঁচি দিয়ে ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেন।

এ ঘটনার পর থেকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সকল পরীক্ষা বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের মুল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে লাগাতার বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে আসছে।