এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ী জেলার মাটি পান চাষে উপযোগী ও স্বাদ ভালো হওয়ায় মিষ্টি পানের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে চাষিরা দিন দিন পানে চাষে আগ্রহী হয়েছিলো।

তবে করোনার প্রভাবে পান বিদেশে রপ্তানী বন্ধ হয়ে পড়া ও দাম কম থাকার কারণে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষীরা। এতে অনেক চাষী পান বরজ ভেঙ্গে অন্যচাষে ফসল চাষে ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলাতে ৮৮ হেক্টর জমিতে মিষ্টি পান ও সাচি পানের আবাদ করা হয়েছে। ৬৫৮টি মিষ্টি পানের বরজ, ১৫৬টি সাচি পান বরজসহ ৮১৪টি বরজে ৮৮ হেক্টর জমিতে পানের চাষ।

মিষ্টি পান চাষে উর্বর ভুমি হিসেবে পরিচিত বালিয়াকান্দি উপজেলা। এ অঞ্চলের পানের সুখ্যাতি বহু পুরনো। এখানে সাধারনত দু,জাতের পান উৎপাদন হয়। মিষ্টি পান আর সাচি পান। এখানকার মিষ্টি পান চাহিদা মিটিয়ে ৮টি দেশে রপ্তানী করা হতো। তবে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋনের ব্যবস্থা করলে প্রতি বছর কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। অনেক সময় পান চাষীদের বেকায়দায় পড়তে হয়। কারণ রোগের বিষয়ে কৃষি বিভাগে নেই কোন পরামর্শের সুযোগ।

পান চাষী গনেশ মিত্র বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলার আড়কান্দি, বেতেঙ্গা, চরআড়কান্দি, ইলিশকোল, স্বর্প বেতেঙ্গা, খালকুলা, বালিয়াকান্দি, বহরপুর, যদুপুর এলাকায় ব্যাপক পানের আবাদ হয়। তাদের পুর্ব পুরুষের আমল থেকে পানের চাষ করে আসছেন। পুর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারাও পান চাষ করছে। তবে এখন পানের দাম একেবারেই কম হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। ৮০ টি পান আগে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হতো সেই পান এখন মাত্র ৪-৫ টাকা দাম। তবে বাজারে একেকটি পান কিনে খেতে গেলে ঠিকই ৫ টাকা দিয়েই কিনে খেতে হয়। তাহলে আমাদের অবস্থা কি আপনারাই বোঝেন।

বাবাকে পানের বরজে সাহায্য করতে আসা কলেজ ছাত্র সুজন মিত্র বলেন, এ অঞ্চলের সাচি ও মিষ্টি পান প্রচুর জন্মে। মিষ্টি পান রাজবাড়ী জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা মিটিয়ে ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, নেপাল, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া রপ্তানী করা হতো। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হতো। করোনার কারণে বিদেশে পান রপ্তানী বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাজারে পানের দাম নেই। এ কারণে আমরা পান চাষ বাদ দিয়ে অন্যচাষে ঝুঁকছি।

পান চাষী আলোক রাহা বলেন, করোনার প্রভাবের কারণে পানে লোকসান গুনতে হয়। এবছর লাভের আশা করছিলাম। তবে কয়েকদিনের ঘন বৃষ্টির কারণে ও পানের দাম নেই। কৃষি কর্মকর্তারাও কোন পরামর্শ দিতে পারে না। তাই বিষয়টি নিয়ে গবেষনার দাবী জানানো হয়। আগে বিদেশে প্রচুর চাহিদা থাকলেও এখন আর পান বিদেশে পাঠাতে পারছি না। দাম না থাকার কারণে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে।

পান চাষী কার্তিক রাহা, পংকজ ইন্দ্র বলেন, অর্থকরী ফসল পান হলেও তাদের নেই কোন সহযোগিতা। সরকারীভাবে তাদেরকে সুদমুক্ত ঋনের ব্যবস্থা করলে পান চাষকে আরো লাভজনক ও জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানকার মিষ্টি পান এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ৮টি দেশে রপ্তানী করা হতো। এখন রপ্তানী বন্ধ রয়েছে। তবে পান রপ্তানী করতে চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। পান চাষীদেরকে সব সময় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ প্রদান করেন।