মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নে ৮ বছরের শিশুকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা কেটে পালানোর সময় জনতার হাতে আটক এক যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দিল এলাকাবাসী। গলাকেটে গুরুতর জখম অবস্থায় শিশু আবির (৭)কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তিকরা হয়।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শিশুটি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে অপারেশন করা হয়েছে। তবে শিশুটি এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগ জুড়ে দিনভর গরম ও প্রচন্ড তাপদাহের কারণে সোমবার (১৮ জুলাই) বিকালের দিকে পীরগঞ্জের কুমেদপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সবুজ মিয়ার দুই ছেলে আদনান (৯) ও আবির (৭) রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের পার্শ্ববর্তী আখিরা নদীতে গোসল করাত যায়।

দুইভাই নদীতে গোসল করাতে থাকে। এ সময় একই গ্রামের বাটুলের ছেলে বিটুল (২২) নামের এক বখাটে যুবক শিশু আবিরকে ডেকে নদীর তীরে তুলে আনেন। এবং কিছু বুঝে উঠার আগেই অতর্কিতভাবে তার হাতে থাকা নিড়ানী (পাচুন) দিয়ে শিশু আবিরের গলায় ও ঘাড়ে এলোপাতাড়িভাবে কোপাতে থাকে।

এ সময় শিশুটির ডাক-চিৎকারে শিশুটির বড় ভাই আদনানসহ এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে বখাটে বিটুল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী ঘাতক বিটুলকে আটক করে। উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে গণধোলাই দিতে শুরু করে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি স্থানীয় চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম তার নিজ জিম্মায় নিয়ে কুমেদপুর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আটক রেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘাতক বিটুলকে পুুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

স্থানীয় চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, গুরুতর জখম অবস্থায় শিশু আবির (৭)কে প্রথমে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে শিশুটির অবস্থা অবনতি হলে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শিশুটি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে অপারেশন করা হয়। তবে শিশুটি এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, স্থানীয় কুমেদপুরের ১ শিশুকে গলাকাটার ঘটনায় বাটুল নামে এক যুবককে জনসাধারণের হাত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আটকের পর স্থানীয়দের মারধরে আহত হয় বিটুলও। পুলিশ হেফাজতে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। কী কারণে সে হত্যাচেষ্টা করেছিল তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শিশুটির পিতা বাদি হয়ে থানায় একটি এটেম টু মার্ডারের মামলার প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।