মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : রংপুরে ১২ বছরে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ৪৪ হাজার ৩৮৪ মেট্রিক টন। বর্তমানে উত্তরের বিভাগীয় এ জেলায় মাছের উৎপাদন ৬২ হাজার ৬৯ মেট্রিক টন। বারো বছর আগে ২০১০ সালে উৎপাদন ছিল ১৭ হাজার ৬৮৫ মেট্রিক টন। উৎপাদন বাড়লেও জেলায় বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী মাছের ঘাটতি ১ হাজার ২৭ মেট্রিন টন।

রোববার (২৪ জুলাই) সকালে রংপুর কালেক্টরেট ক্রিকেট গার্ডেনের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন জেলা মৎস কর্মকর্তা বদরুজ্জামান মানিক।

এর আগে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বেলুন উড়িয়ে জাতীয় মৎস সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। র‌্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ক্রিকেট গার্ডেনের পুকুরপাড়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে সবাই মিলিত হন।

সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আসিব আহসান বলেন, রংপুর জেলায় মাছের উৎপাদন ৬২ হাজার ৬৯ মেট্রিক টন হলেও আমাদের চাহিদা ৬৩ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন। বর্তমানে সৃষ্ট ঘাটতি মেটাতে পোনা মজুদ, বিল-নার্সারি স্থাপন, প্রর্দশনী মৎস খামার, মৎসচাষী প্রশিক্ষণ, জলাশয় সংস্কার, সরকারি-বেসরকারি হ্যাচারী পরিচালনা, মাছ চাষে আধুনিক পিলেট খাদ্য ব্যবহার, ধানক্ষেতে মাছ চাষসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের আমিষের চাহিদা পূরণে জনপ্রতি বাৎসরিক ২১ দশমিক ৯ কেজি মাছের চাহিদা নির্ধারণ করেছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গড়-পড়তা এ জেলায় মাছের চাহিদা দাঁড়িয়েছে মোটে ৬৩ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন।

ডিসি বলেন, মাছের উৎপাদনে ঘাটতি সৃষ্টির পেছনে নদ-নদীর নাব্যতার সঙ্গে খাল-বিল, দিঘী-পুকুরসহ অন্যান্য জলাশয়ের পানি ধারণ ক্ষমতা ওতোপ্রতভাবে জড়িত। এসব কারণে এ অঞ্চলে মাছ চাষে প্রতিকূল অবস্থা বিরাজ করছে। পাশপাশি এ এলাকা কিছুটা পশ্চাৎপদ হওয়াতে মৎসচাষি, মৎসজীবী ও মৎস্য উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় বিনিয়োগেও দেশের অনেক এলাকার তুলনায় পিছিয়ে আছেন। তারপরও আমরা দিন দিন ঘাটতি পূরণ করে মাছের উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা করছি।

জেলা মৎস কর্মকর্তা বদরুজ্জামান মানিক বলেন, বর্তমানে রংপুর জেলায় ৮ হাজার ৪৫০ হেক্টর জলায়তনে ৪২ হাজার ৩৩৯টি সরকারি-বেসরকারি দিঘী, ২০১৩ হেক্টরের ২৫৯টি সরকারি-বেসরকারি বিল, ৫৩ হেক্টরের ৯৭টি বরোপিট, ৬টি ছোট-বড় নদী ও ২২ হাজার ২৫ হেক্টর প্লাবন ভূমি আছে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বর্তমানে জেলায় ২১টি হ্যাচারি ও ৮১২টি মৎস নার্সারি পরিচালিত হচ্ছে।