মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : রংপুরের পীরগঞ্জে স্বামীকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহসপতিবার (২৩ জুন) বিকেলে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-৩ এর বিচারক এম আলী আহাম্মেদ এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলো।

বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি তাইবুর রহমান লাইজু এ্যাডভোকেট এবং এপিপি মাকজিয়া হাসান দীবা এ্যাডভোকেট। তারা জানান, দেরীতে হলেও জঘন্য ঘটনার ন্যায় বিচার পেয়েছে বিচারপ্রার্থীরা। এর মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি হলো বলে আমরা মনে করি।

অন্যদিকে আসামী পক্ষের আইনজিবী আব্দুস সালাম জানান তার মক্কেল ন্যায় বিচার পায়নি তারা এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল দায়ের করবেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর তারিখে রাত ১১টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার একবারপুর দক্ষিনপাড়া গ্রামের ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিয়ে আত্মীয়র বাসায় দাওয়াত খেয়ে বাসায় ফেরার পথে আসামী একরামুল হক ও আবুল কালাম আজাদ তাদের পথরোধ করে।

আসামীরা অস্ত্রের মুখে স্বামীকে একটি গাছের সাথে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে অপহরণ করে মাদারগঞ্জ কলেজের পার্শ্বে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে উপর্যুপরি গণধর্ষণ করে গৃহবধুকে ফেলে রেখে চলে যায়।

তাদের আত্মচিৎকারে আশে পার্শ্বের লোকজন এগিয়ে এসে স্বামী ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নির্যাতিতা গৃহবধুর স্বামী বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ইকবাল বাহার দুই আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দাখিল করে।

মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে আদালতে ১২জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করে। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে মামলা চলার পর অবশেষে আজ বৃহসপতিবার বিজ্ঞ বিচারক দুই আসামী একরামুল হক ও আবুল কালাম আজাদকে দোষি সাব্যস্ত করে ধর্ষনের অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এব্ং অপহরনের অভিযোগে ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়ে রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর দুই আসামীকে পুলিশী পাহারায় কোট হাজতে নিয়ে যাওয়া হয় পরে তাদের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।