রংপুর অফিস : রংপুর নগরীর ধাপ মোহাম্মদপুর আটিয়াটারী মহল্লায় স্ত্রী হত্যার দায়ে এক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

যৌতুকের দাবীকৃত টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করার দায়ে স্বামী সোহেল রানাকে এ মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয় রংপুর ও শিশু দমন নির্যাতন ট্রাইবুন্যাল আদালত।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) দুপুর ১টায় এ রায় দিয়েছে রংপুর ও শিশু দমন নির্যাতন ট্রাইবুন্যাল আদালত এর বিচারক মোস্তফা কামাল রায় দেয়। চাঞ্চল্যকর এ রায় ঘোষণার সময় ঘাতক সোহেল রানা আদালতে উপস্থিত ছিলো। পরে কঠোর পুলিশী পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রফিক হাসনাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০১৫ সালে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পারিবারিকভাবে সুলতানা পারভীনকে বিয়ে করেন সোহেল রানা। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের জন্য উপহার হিসেবে নগদ ২০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র দেন সুলতানার পিতা সুজা মিয়া। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন পর বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে আরও এক লাখ টাকা আনার জন্য সুলতানাকে চাপ দিতে থাকেন সোহেল ও তার পরিবারের লোকজন। সুলতানা এতে রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিক নির্যাতন ও বিভিন্নভাবে হুমকি দেন তারা।

এক পর্যায়ে বিয়ের ছয় মাস পর সুলতানাকে তার বাবার বাড়িতে রেখে ঢাকায় চলে যান সোহেল। তবে মুঠোফোনে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ২০১৭ সালের ২৭ জুন রাতের খাওয়া শেষে সুজা ও তার মেয়েসহ বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। পরের দিন ভোরে মেয়ে সুলতানাকে ঘরে না পেয়ে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজখবর নিতে থাকেন সুজা। এ সময় সুলতানার মুঠোফোনও বন্ধ থাকে। এক পর্যায়ে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে বাড়ির পাশে পাটক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকা সুলতানার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা।

পরে সোহেল রানাসহ তার পরিবারের ৯ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন সুলতানা পারভীনের বাবা সুজা মিয়া। পরবর্তীতে তদন্তে অন্যদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় শুধু সোহেল রানার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।