মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : রংপুরের মিঠাপুকুরে সমাজসেবা অফিসে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের হয়রানি ও কর্তব্য পালনে অবহেলার এবং দুর্নীতির অভিযোগে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল মতিন। সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মোঙ্গলবার (১৭ মে) সরেজমিনে মিঠাপুকুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বেশকিছু অসহায় হতদরিদ্র প্রতিবন্ধীদের দীর্ঘক্ষণ সমাজসেবা অফিসের সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের অভিযোগ প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়ার নামে হয়রানি করা হচ্ছে।

মিঠাপুকুরের বর্তমান উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা যোগদানের পর প্রতিবন্ধী ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার আচরণে সন্তুষ্ট নন কেউই। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ থেকে সাধারণ মানুষকে তিনি হয়রানি করেই চলেছেন। প্রতিবন্ধী তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও কাজ হচ্ছে না অনেকের।

কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা খাতে উপজেলায় ৭৯০ জনের অতিরিক্ত বরাদ্দ আসলেও, বিষয়টি জানার পরও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী ফেব্রুয়ারি, ২০২২ইং মাস পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করেননি। দীর্ঘদিন পর ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই মাত্র ৬৫ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করেছেন। ১৯ মার্চ ‘২২ পর্যন্ত ৯ হাজার ৮৭৪ জনের মধ্যে ৯ হাজার ১১৭ জনে পে-রোল সম্পন্ন করেছেন।

এ কারণে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীরা যথাসময়ে উপকার বঞ্চিত হয়েছেন। নোটিশে আরো বলা হয়, এই কর্মকর্তার কর্তব্য অবহেলার কারণে সরকারের লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। গরিব, অসহায়, দুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষেরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় বিভাগীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ অবস্থায় তাকে ২৮ এপ্রিল রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল মতিন স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময়সীমার পরও নোটিশের জবাব দেননি অভিযুক্ত কর্মকর্তা।

এমনকি, রোববার ১২ মে পর্যন্তও নোটিশের জবাব দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, সন্তোষজনক জবাব না পেলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ২ এর (খ) ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন, অভিযোগ সঠিক নয়। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ভুল বোঝানো হয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছি সংশ্লিষ্ট অফিসে দুয়েকের মধ্যেই পেয়ে যাবে। জনসাধারণকে হয়রানির বিষয়ে বলেন, এ ধরনের লিখিত অভিযোগ কেউ করেনি।

রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল মতিন বলেন, এখন পর্যন্তও নোটিশের জবাব পাইনি। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।