মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : বিভাগীয় নগরী রংপুরে চলছে বিএনপি’র অবস্থান ও ধর্মঘট। সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দাবিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে চলছে বিএনপির গণঅবস্থান কর্মসূচি।

বিভাগের আট জেলার বিভিন্নস্থান থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে এসে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। নতুন বছরের শুরুতে দলের এই কর্মসূচি পালন করতে রংপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। সকাল ১১টায় শুরু হয়ে বিরতিহীন ভাবে চলবে বিকাল তিনটা পর্যন্ত।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে রংপুর নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে গণঅবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই গণঅবস্থান বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলবে। এতে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, সাবেক এমপি হারুনুর রশিদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। কর্মসূচির সভাপতিত্ব করছেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কের ওপর তৈরি করা দুটি মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন। গ্রান্ড হোটেল মোড় থেকে শাপলা চত্বর এবং দাবানল মোড় পর্যন্ত শত শত নেতাকর্মীরা সড়কে বিছানো কার্পেটে বসে অবস্থান নেন।

এ সময় সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আওয়ামী লীগ কী বলল তা দেখার বিষয় নয়, বরং আওয়ামী লীগ কী হরণ করেছে সেটি আদায় করার আন্দোলন চলছে। আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বিএনপির ১০ দফার সঙ্গে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ২৭ দফা দাবি গণ দাবিতে পরিণত হয়েছে। গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ভোট চোর সরকারকে উৎখাত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করে জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার এবং ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা হবে।

বিএনপির গণঅবস্থান কর্মসূচি ঘিরে যেকোনো ধরণের নাশকতা, সহিংসতা ও অরাজকতা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নগরীর প্রেসক্লাব চত্বর, বেতপট্টিস্থ মোড়, কাচারী বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান করছে।

এদিকে গণঅবস্থান কর্মসূচির কারণে শাপলা চত্বর থেকে জাহাজ কোম্পানি মোড় পর্যন্ত সড়কের এক পাশের যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষজন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সজাগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। নগরীর মোড়ে মোড়ে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।