মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : সদ্য খুন হওয়া রংপুরের হারাগাছ থানায় কর্মরত এএসআই পিয়ারুলের পরিবারে চলছে শোকের মাতম, দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে শঙ্কিত পরিবার।

এএসআই পিয়ারুলের দুই শিশু সন্তান হাসিব পারভেজ হামমাম ও আববার। তাদের একজনের বয়স ৬ বছর এবং অন্যজনের বয়স মাত্র দুই বছর। পিতার খুব আদরের সন্তান তারা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা তারা।

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) এএসআই পিয়ারুল মাদক কারবারি’র ছুরিকাঘাতে রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানা এলাকার সাহেবগঞ্জে দায়িত্বরত অবস্থায় গুরুতর জখম হয়ে রমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এএসআই পিয়ারুল কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মিন্টু মাষ্টারের ছেলে। পুলিশ ছেলেকে হারিয়ে তার পিতা মিন্টু মিয়া পাগলের মত হাউমাউ করে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে দেখা যায়। সন্তানকে হারিয়ে পাগল হয়ে গেছে তার মা। এএসআই পিয়ারুলকে খুন করা হয়েছে কেউই মানতে পারছে না। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে বইছে শোকের মাতম।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্য রাতে রংপুরের হারাগাছ সাহেবগঞ্জ এলাকায় এএসআই পিয়ারুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে মাদক কারবারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাতেই ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার চালানোর পর আইসিইউতে রেখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ১৭ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।

পরে রমেক হাসপাতালে পোস্টমর্টেম করার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আরপিএমপি পুলিশ অফিস ক্যাম্পাসে নিহত পিয়ারুলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানগর পুলিশের কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকাল ৫টায় তার গ্রামের বাড়ী কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দে দ্বিতীয় জানাজা শেষে শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।