মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের টানে কুড়িগ্রামের কচাকাটা থেকে রংপুরের বদরগঞ্জে এসে প্রেমিকের দুলাভাইয়ের ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় মামলা হলে শ্যালক ও দুলাভাইকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শ্যালক শহিদুল ও দুলাভাই আরিফুলকে দুপুরে গ্রেফতার করা হয়। বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মাস চারেক আগে মুঠোফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে একই থানার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বালারহাট গ্রামের শহিদুল ইসলামের (৩২) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শহিদুল বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক হলেও বিষয়টি গোপন রেখে মেয়েটিকে ফুঁসলিয়ে গত মঙ্গলবার (৩ মে) সন্ধ্যায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নে ভগ্নিপতি আরিফুল ইসলামের বাড়িতে নিয়ে যান।

পরে আরিফুল ওই ছাত্রীকে তার বাসায় রাখলেও শ্যালক শহিদুলকে কৌশলে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেন। এরপর গভীর রাতে শহিদুলের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে বের করে পার্শ্ববর্তী জেলেপাড়ার একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান দুলাভাই আরিফুল।

এ সময় ওই ছাত্রী চিৎকার দিলে স্থানীয় জেলেপাড়ার লোকজন কিশোরীকে উদ্ধার করে। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুলাভাই আরিফুল পালিয়ে যান।

পরে বুধবার (৪ মে) সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। বদরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাটি কুড়িগ্রামে ওই ছাত্রীর পরিবার কে জানানো হলে সেখানে ওই কিশোরীর চাচা বাদী হয়ে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শহিদুল ইসলাম বিবাহিত এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে রংপুরে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।