মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া তালিকার বাইরে পরা মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে রংপুর সার্কিট হাউসে, লালমনিরহাট-১ আসনের এমপি মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে জামুকার প্রতিনিধিগণ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করেন। ২৩ ও ২৫ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী এ যাচাই-বাছাইয়ে রংপুর জেলার ৩টি উপজেলা মিঠাপুকুর, গংগাচড়া ও বদরগঞ্জের আপিলকৃত আবেদনকারীদের কথা শোনা হবে।

সরেজমিন গিয়ে আপীলকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ৪৫ বছর পর তালিকা থেকে ছিটকে পরা মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটের আওতাভুক্ত করতে সরকার ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করে। সারা দেশের ন্যায় রংপুরেও এর কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৭ সালের মে মাসে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কর্তৃক রংপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার মোছাদ্দেক হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে যাচাই-বাছাই হয়েছিল। মঞ্জুরকৃত তালিকায় বাদপরা প্রার্থীরা পরে জামুকায় আপিল করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ৪ বছর পর এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার মহানগরসহ পীরগাছা, কাউনিয়া, পীরগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি প্রার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম হবে। এ সময় সার্কিট হাউজে রংপুর মহানগরের খ” এবং গ” তফসিলকৃত প্রার্থী মরহুম তবারক হোসেন এর ছেলে
রাতুল ও মরহুম মকবুল হোসেনের ছেলে আকতারুজ্জামান স্যান্ডো, মরহুম আব্দুল ওয়াহাবের মেয়ে আছিয়া জানান, তাদের বাবা জামুকায় আপিল করার পর মারা গেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া বাবার ইতিহাস বিষয়ে কিভাবে জবাবদিহিতা করবেন যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে, এ নিয়ে সংশয় আছেন তারা।

এ ছাড়াও দালিলিক কাগজপত্র ও তৎকালীন জীবিত বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষীর প্রত্যায়নপত্র নিয়ে জামুকায় আপিল করার পর অনেক সহযোদ্ধা সাক্ষীর মৃত্যু ঘটায় আপিলকারীরা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে সাক্ষী হাজির করা নিয়ে হতাশায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে আপিলকারী তাহের আলী, আনছার আলী, নুর ইসলাম, আব্দুল গফুর, আব্দুল মান্নান জানান, জামুকায় আপিল ফরমে যে সকল মুক্তিযোদ্ধা আমার সাক্ষী ছিল তাদের অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

মৃত আপিলকারী ও মৃত সাক্ষীদের যাচাই-বাছাইয়ে উপস্থিতি বিষয়ে রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর নাহার বেগম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই দিনব্যাপী যাচাই বাছাই কার্যক্রম হবে। সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন এ যাচাই-বাছাই করবেন। মৃত আপিলকারীদের ওয়ারিশ মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে দালিলিক প্রমাণ নিয়ে হাজির হবেন। আর মৃত সাক্ষীদের বিষয়ে জামুকার নীতিমালা অনুযায়ী বাছাই করবে জামুকা।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ গোলাম রব্বানী জানান, ২০১৭ সালের যাচাই-বাছাইয়ে খ” তফসিল বর্ণিত দ্বিধা বিভক্তি ও গ”তফসিল বর্ণিত না’মঞ্জুরকৃত প্রার্থীরা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে আপিল করেন।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) লালমনিরহাট-১ আসনের এমপি মোতাহার হোসেনকে সভাপতি করে দায়ীত্ব প্রদান করেন। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকার) প্রতিনিধি আপিল যাচাই-বাছাই কমিটির রংপুর বিভাগীয় সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি জানান, যাচাই-বাছাই চূড়ান্ত না হওয়ায় কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে জামুকার প্রদত্ত নীতিমালার নিয়ম অনুসারে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম হচ্ছে।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানান, ইতিপূর্বে মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে অনেকে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে, তবে এই যাচাই-বাছাইয়ে তাদের মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার সুযোগ নাই। আর যে সকল আবেদনকারী বা তাদের সাক্ষীরা মারা গেছেন, তাদের জন্য আলাদা ফরম আছে সেই ফরমে তাদের তথ্য পূরণ করতে হবে, আমরা সেগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করবো।