মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : রংপুরে আত্মসমর্পণকারী অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী পুরনো পেশায় ফিরে এসেছে।

চার বছর আগের কথা। ২০১৮ সালের রংপুর বিভাগে মাদক ব্যবসায়ীদের সাধারণ জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিয়ে আত্মসমর্পণের আহবান জানানো হয়। পুলিশ প্রশাসনের ওই আহবানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন সময়ে এই বিভাগের ৮ জেলায় প্রায় ৩ হাজার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অঙ্গিকার করেন।

মাদক ব্যাবসায়ীদের মধ্যে কেউ কেউ অঙ্গিকার রক্ষা করে মাদক ছেড়ে অন্য ব্যবসায় গেলেও অনেকেই পুরনো ব্যবসা ছাড়তে পারেনি। ফলে মাদকের নিরাপদ রুটগুলো নিরাপদই রয়ে গেছে। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন হওয়ার আগে রংপুরের হারাগাছও ছিল মাদক কেনা বেচার একটি বৃহত্তর রুট। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল আরোহী হারাগাছে যেত মাদক সেবনের জন্য। এখানে একাধিক মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

সে সময় পুলিশ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে হারাগাছে মাদক ব্যবসায় ভাটা পড়ে। ২০১৮ সেপ্টেম্বরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন করা হলে হারাগাছ মেট্রোপলিটনের অধীনে চলে আসে। হারাগাছে আগের মত রমরমা মাদক ব্যবসা না থাকলেও চিহ্নিত কিছু মাদক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন।

ওইসব মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী এতই বেপরোয়া যে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হত্যা করতেও ছাড়ছে না। গত শুক্রবার রাতে রংপুরের হারাগাছে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গেলে পুলিশের এএসআই পিয়ারুল ইসলামের নিহত হন।

এ ঘটনায় সচেতন মহল মনে করছেন মাদকের ভয়াবহতা বন্ধ করতে না পারলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হতে পারে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি এন্ড মিডিয়া ) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক সেবী ও ব্যবসায়ী কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।