মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : রংপুরের বদরগঞ্জে অভিনব কায়দায় একটি হিন্দু বাড়িতে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে বাড়ির মালামালসহ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্ততা।

রবিবার (২৪ এপ্রিল) সকালে দিকে প্রতিবেশিরা অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এর আগে শনিবার (২৩ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কাঁচাবাড়ী হিন্দুপল্লীর চন্দন দাসের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। সর্বস্ব হারিয়ে এখন আর্তনাদ করছেন চন্দন দাসের স্ত্রী দ্বীপা রানী দাস।

ভুক্তভোগি পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার কোন এক সময় কে বা কারা চন্দন দাসের বাড়িতে প্রবেশ করে কৌশলে রান্না ঘরে রাখা খাবারের সঙ্গে চেতনা নাশক ঔষধ মিশিয়ে দেয়। রাতে বাড়ির লোকজন ওই খাবার খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। ওই সুযোগে দুবৃর্ত্তরা বাড়ির জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আলমিরা ভেঙে নগদ ৩০ হাজার টাকা, ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। যার পরিমাণ প্রায় চার লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

চন্দন দাসের স্ত্রী দ্বীপা রানী দাস বলেন, ঘটনার আগের দিন আমার মাসহ কয়েক বেড়াতে আসেন। তাদের জন্য ভালো রান্না করা হয়। এখন কে বা কারা ওই খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ঔষধ ছিটিয়ে দেয়।

চন্দন দাস বলেন, নগদ ৩০ হাজার টাকা, একটি নষ্ট রাইচ কুকারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। কে এই সর্বনাশ করলো এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারছি না।

লোহানীপাড়া ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির বলেন, অজ্ঞান করা ঔষধ দিয়ে পরিবারটির সর্বনাশ করা হয়েছে। এটা চুরি নয় ডাকাতি বলে মনে হচ্ছে।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়নি। কোন একটি চক্র হয়তো এমন ফাঁদ পেতে এ অপকর্ম করেছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বিট অফিসারকে পাঠিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।