কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব থেকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন কাঠালিয়ার কৃতি সন্তান মোঃ কামাল হোসেন। গত ২৯ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে মোঃ কামাল হোসেনকে এ পদোন্নতি দেওয়া হয়।

কামাল হোসেনের পদোন্নতির খবরে কাঠালিয়া উপজেলায় সাধারণ মানুষদের মধ্যে আনন্দের উৎসব চলে। কামাল হোসেন যুগ্ম-সচিব হয়েছেন এ খবরে আওরাবুনিয়া গ্রামে আনন্দ নেমে আসে। গ্রামের সব বয়সী মানুষ নিজেদের গ্রামের কৃতি সন্তানের পদোন্নতিতে খুশিতে আত্মহারা। তারা বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। সেই সাথে কামাল হোসেনের আরো সফলতা কামনা করে শুভেচ্ছা জানান এলাকাবাসী।

কামাল হোসেন বলেন, আমার এ পদোন্নতির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সবসময় সরকারের দেওয়া দায়িত্ব নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মধ্যদিয়ে পালন করছি। মানুষের প্রতি মায়া-মমতা নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করলে যেকোনো মানুষ প্রশংসা পাবেন। তবে শুধু প্রশংসা পাওয়ার জন্য কিছু করা উচিত নয়। পুরস্কার কিংবা তিরস্কার এ দুটিই কাজের মূল্যায়ন। যতোদিন বেঁচে থাকবো মানুষের সেবায় কাজ করে যাব।

ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার বিশখালী নদীর তীরঘেষে অবস্থিত আওরাবুনিয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কামাল হোসেন। তারা বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুর জব্বার ফরাজী ছিলেন একজন আদর্শবান স্কুল শিক্ষক। দেশপ্রেমিক বাবার আদর্শ বুকে নিয়ে বেড়ে ওঠা কামাল হোসেন গোটা ঝালকাঠিবাসীর গর্ব। শৈশব থেকেই শুভ্র-চঞ্চল স্বভাবের এবং নানা প্রতিভায় গুনান্বীত মানুষ ছিলেন তিনি। ভাল কিছু শেখার নেশায় তিনি সারাক্ষন মেতে থাকতেন। নম্র ও বিনয়ী কামাল হোসেন ছাত্রজীবনে নিজ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ আওরাবুনিয়া মডেল হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর নিজ গ্রামীণ জনপদ পাড়ি দিয়ে বেতাগী ডিগ্রী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। তিনি বাংলাদেশ ক্যাডার সার্ভিসের যোগ দেওয়ার আগ থেকেই নিজেকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন।

এর আগে তিনি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ছিলেন। কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মধ্যদিয়ে সাধারণ মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন। ফলে আজও তার নাম হৃদয়ে গেঁথে রেখেছে কক্সবাজারবাসী। কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের মতে তিনিই ছিলেন জেলার ইতিহাসে সফল প্রশাসক। কক্সবাজার থেকে বিদায় দিতে সরকারি দপ্তরগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সমাজিক প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে বিমান বন্দরে। সেইসাথে তাদের পক্ষ থেকে আসা ফুল বলে দিয়ে ছিল তাদের বিদায়ী জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় আশ্রয় দেয়া বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সেবা প্রদান করায় তিনি ‘জনপ্রশাসন পদক’ লাভ করেছেন।

পরিচ্ছন্ন মননশীল, সদালপী ও বিনয়ী এই মানুষটি সরকারি কর্তব্য পালনের পাশাপাশি ঝালকাঠি জেলার মানুষের প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসার টান থেকেই বিভিন্ন উন্নয়ন ও মানব সেবামূলক কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।