এস এম ইব্রাহিম হোসাইন, জামালপুর থেকে : এশিয়ার বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সারকারখানা লিঃ-এ সার কেলেংকারী ঘটনায় ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) ওয়ায়েছুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশন (বি সি আই সি)।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশন প্রধান কার্যালয়ের এক অভিযোগ বিবরণীতে জানা যায়, জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড এর কর্মরত বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক ওয়ায়েছুর রহমন তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, অদক্ষতা, চুরি, আত্মসাৎ, তহবিল তছরুপ এবং প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত সহ প্রায় ২০ হাজার মেঃটন ইউরিয়া সার- যার মুল্য প্রায় ৩০ কোটি ২৬ লক্ষ ২৯ হাজার ৬৩৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে ।

জানা যায়, গত ০৯-০৯-২০২১ তারিখের স্বারক নং ৩৬.০০.০০০০.০৬২.৯৯.০৫৬.২০.৩০১ মুলে যমুনা সারকারখানা এর ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ পরিকল্পনার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

তৎপ্রেক্ষিতে সংস্থা হতে গত ২৬-০৯-২০২১ তারিখ স্বারক নং ৩৬.০১.০২৭.০১ ০২.৪৫৪২.২০২১/১৮২ দ্বারা বিসিআইসি প্রধান কার্যালয়় হতে ৬ সদস্য বিশিষ্ট প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বিসিআইসি প্রধান কার্যালয় হতে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত শেষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর রিপোর্ট দাখিল করে।

দাখিলকৃত প্রতিবেদন উল্লেখিত অভিযোগ বিবরণী থেকে জানা যায় ওয়ায়েছুর রহমান, ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) জেএফসিএল এ গত ০৬-০৯-২০২১ তারিখ হতে অদ্যবধি কর্মরত আছেন।

কারখানায় বিক্রয় শাখা প্রধান হিসেবে জে এস সি এল এর উৎপাদিত সারের ব্যাগ গোডাউন নং০১, আমদানি সারের গোডাউন নং০২ এবং কারখানার বিভিন্ন স্থানে রক্ষিত ব্যাগ সারের রক্ষণাবেক্ষণ ও বিতরণের সমস্ত দায়়দয়িত্ব তার নিয়ন্ত্রণাধীন।

বিসিআইসির তদন্ত কমিটি গত২৯-০৯-২০২১ তারিখে জেএফসিএল এর উৎপাদিত সারের পরিসংখ্যান/ মজুত হিসাব তার নিকট হতে সংগ্রহ করে। তার স্বাক্ষরকৃত লিখিত তথ্য অনুযায়ী গত২৯-০৯-২০২১ তারিখে জেএফসিএল এর উৎপাদিত ব্যাগ সারের মজুদের পরিমাণ৩৭,৫৭৪.৭০ মেট্রিক টন ও লুজ সারের পরিমাণ৫১,৮৬৬.৬০ মেট্রিক টন।

কিন্তু বিসিআইসি তদন্ত কমিটি গত ২৯-০৯-২০২১ তারিখে সরেজমিনে জেএফসিএল এর উৎপাদিত ব্যাগ সারের মজুদের পরিমাণ২১,৩১০.৩৫ মেট্রিক টন এবং লুজ সারের পরিমাণ ৫১,৬৪৯.৯২ মেট্রিক টন পেয়েছে। প্রকৃত পক্ষে জেএফসিএল এর উৎপাদিত ব্যাগ সার ১৬,২৬৪.৩৫ মেট্রিক টন, এস এফ সি এল এর সার ১২১.১০ মেট্রিক টন এবং লুজ সার ২১৬.৬৮ মেট্রিক টন সহ মোট ১৬,৬০২.১৩ মেট্রিক টন সার পাওয়াা যায়নি। যার আর্থিক

মূল্য (১৪,০০০×১৬,৬০২.১৩)= ২৩;২৪,২৯,৮২০.০০ (তেইশ কোটি চব্বিশ লক্ষ উনত্রিশ হাজার আটশত বিশ) টাকা। বিক্রয় শাখা প্রধান হিসেবে ঘাটতি কৃত১৬,৬০২.১৩ মেট্রিক টন সার এর দায়ভার তার ওপর বর্তায়। গত ২৯-০৯-২০২১ তারিখে তার স্বাক্ষরকৃত লিখিত তথ্য অনুযায়ী, জেএফ সিএল এর ০২ নং গোডাউনে রক্ষিত কাফফো সার ১,১১৩.০০ মেট্রিক টন এস এফ সি এল এর সার ১২১.১০ মেট্রিক টন এবং আমদানি সার ২,৭০৮.০০ মেট্রিক টন মজুত রয়েছে।

কিন্তু বিসিআইসি তদন্ত কমিটি গত২৯-০৯-২০২১ তারিখে সরেজমিনে জেএফসিএল এর ০২ নং গোডাউনে বাস্তব গণনায় কাফকো সার ৯০.০০ মেট্রিক টন ও এসএফসিএল এর কোন সার পাওয়া যায়নি এবং আমদানি সার ১২০০.০০ মেট্রিক টন মজুত পেয়েছে। তার প্রদত্ত তথ্যের সাথে বাস্তব গণনায় কোন মিল পাওয়া যায়নি।

প্রকৃতপক্ষে জেএফসিএল এর রক্ষিত আমদানি সার ১,৫০৮.০০ মেট্রিক টন এবং কাফকো সার ১,০২৩.০০ মেট্রিক টন সহ সর্বমোট ২৫৩১.০০ মেট্রিক টন সার পাওয়া যায়নি। যার আর্থিক মূল্য আন্তর্জাতিক রেইটে(২৫৩১.০০×২৭,৭৩৬.০০ (তিন বছরের আমদানী মূল্যর গড় রেইটে)=৭,০১,৯৯,৮১৬.০০টাকা। বিক্রয় শাখা প্রধান হিসেবে ঘাটতিকৃত ২৫৩১.০০ মেট্রিক টন সার এর দায়ভার তার ওপর বর্তায়। জেএফসিএল এর ১৯,১৩৩.১৩. মেট্রিক টন সার আত্মসাতের দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিসিআইসির প্রধান কার্যালয় হতে গঠিত তদন্ত কমিটির জেএফসিএল এর ২০ হাজার মেট্রিক টন সার কেলেংকারীর অভিযোগ সরেজমিনে তদন্তের সময় তদন্ত টিমকে বিক্রয় শাখা প্রধান হিসেবে ও গণনায় চরম অসহযোগিতা করার অভিযোগসহ অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।

যমুনা সার কারখানার ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করার জন্য চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।