সরিষাবাড়ি (জামালপুর) প্রতিনিধি : বৃহত্তম ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্টান যমুনা সারকারখানা (জে এফ সি এল) এ জেনারেল ম্যানেজার (জি এম) প্রশাসন দেলোয়ার হোসেনকে লাঞ্চিত করেছে কারখানার সিবিএ নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রধান কার্যালয় বি সি আই সি।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশে যমুনা সারকারখানার জি এম প্রশাসন দেলোয়ার হোসেন সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় কারখানার প্রধান গেটে তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। প্রায় ২ ঘন্টা পর সাড়ে ১০টার দিকে কারখানার সিবিএ নেতা ও বেগিং সেকশন মাষ্টার অপারেটর মায়নুল হোসেন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য দেরিতে ভিতরে প্রবেশ করলে তাকে হাজিরা খাতায় সময় উল্লেখ করে স্বাক্ষর করতে বলেন। এতে হিতে বিপরীত হয়ে যায়। এক পর্যায়ে মায়নুল হোসেন উত্তেজিত হয়ে জি এম প্রশাসনের উপর মারমুখি আচরনে লিপ্ত হয়। পরে মায়নুল হোসেন কারখানার সিবিএ অফিসে গিয়ে জি এম প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

অপর দিকে বেলা ২টার দিকে সিবিএ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও সাধারন সম্পাদক শাহজাহান আলী সহ ক্ষিপ্ত হয়ে দল-বল নিয়ে জি এম প্রশাসন দেলোয়ার হোসেনের অফিস কক্ষে ঢুকে অকর্থ ভাষায় গালাগাল করে এবং তাকে কোটের কলার ধরে টানা হেছঁড়া করে লাঞ্চিতসহ অফিস থেকে বের করে দেয়।

এ ঘটনায় জি এম প্রশাসন দেলোয়ার হোসেন বলেন যমুনা সারকারখানার এম ডি শহিদুল হক খান স্যার কারখানায় শ্রমিক-কর্মচারীদের সঠিক সময়ে কর্মস্থলে যোগদান করার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেন। আমি সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় কারখানার প্রধান গেটে কাজের তদারকির দায়িত্ব নিয়োজিত ছিলাম। সিবিএ’র নেতা মায়নুল হোসেন সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানায় ডুকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে গেলে তাকে সময় উল্লেখ করে স্বাক্ষর করতে বলেন জি এম প্রশাসন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মায়নুল। এক পর্যায়ে মায়নুল আমার বিরুদ্ধে সিবিএ অফিসে বিচার দিলে অফিসের সভাপতি /সম্পাদক সহ উপস্থিত সবাই ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অকর্থ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং অফিস থেকে বের করে দেয়।

এ ব্যপারে সিবিএ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও সাধারন সম্পাদক শাহজাহান আলী জানান জি এম প্রশাসনক দেলোয়ার হোসেনকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করা হয় নাই। ঘটনা নিষ্পত্তি হওয়ার আগে সে অফিসে আসতে পারবেনা মর্মে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়।

যমুনা সারকারখানা লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল হক খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রধান কার্যালয় বি সি আই সি থেকে জি এম পার্সেল শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।