অঘোষিত গণপরিবহন চলাচল বন্ধ, নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাসী

ময়মনসিংহ অফিস : বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় গণসমাবেশের দিনক্ষণ নির্ধারিত থাকলেও সার্কিট হাউজ ময়দানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। এ নিয়ে দুইদিন ধরে দেন-দরবার চললেও শেষ পর্যন্ত স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় বিএনপি। অবশেষে নগরীর পলিটেকনিক মাঠে সমাবেশের স্থান নির্ধারণ করে প্রস্তুতি শুরু করেছে আয়োজকরা।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্থান নির্ধারণের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সার্কিট হাউজ ময়দানে গণসমাবেশ করার অনুমতি না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আমরা কারো শত্রু নই, আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও কারো সাথে আমাদের দ্ব›দ্ব নাই। আমরা শান্তির্পূণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সমাবেশ করতে চাই। এ জন্যে প্রশাসনসহ সকলের সহয়োগিতা কামনা করছি। সংবিধানের সবটুকু অধিকার আমরা পেতে চাই। চট্টগ্রামে সমাবেশের তিন দিন আগেই প্যালোগ্রাউন্ডে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে বরিশাল, সিলেটের সমাবেশের স্থানও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ময়মনসিংহে কি এমন হয়েছে যে, প্রশাসন মাঠের অনুমতি দিচ্ছে না। নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাসী করছে পুলিশ। জনগণকে সব বাঁধা অতিক্রম করে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার আহবান জানান তিনি।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি ও হুইপ মশিউর রহমান বলেন, সমাবেশে যাতে জনগণ আসতে না পারে সেজন্য ময়মনসিংহ অঞ্চলের সর্বত্রই গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমাবেশ বাঁধাগ্রস্থ করতে নানা হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। বিএনপিকে সার্কিট হাউজ ময়দানে সমাবেশের অনুমতি না দিলেও সরকারি দলকে ‘কাউন্টার’ প্রোগ্রাম করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, সার্কিট হাউস ময়দানে সমাবেশ করার জন্য গত ৬ অক্টোবর প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বড় মাঠে সমাবেশের জনস্রোত আড়াল করার জন্য সার্কিট হাউজ ময়দান দেওয়া হচ্ছে না। এখন জনস্রোত যদি সারা শহরে ছড়িয়ে যায় আর তাতে যদি কোনো বিশৃঙ্খলা হয় এর দায়-দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হবে। ভয়-ভীতি দেখিয়ে সমাবেশ বাঁধাগ্রস্থ করা যাবে না। ময়মনসিংহের সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ জানান, বিকেলে মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশ শেষে মিছিল বের করলে মিছিলকারিরা তার বাসভবনের দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অলিগলিতে বিএনপির সকল পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয়েছে। দুইদিন আগেই গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সিএনজি চালিত অটোরিকসা, মাহেন্দ্র, ইজিবাইক চলাচল বন্ধ রাখার জন্য চালকদের চাপ দেয়া হচ্ছে।

এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেস আলী মামুন ও শরীফুল আলম, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক এ কে এম এনায়েত উল্লাহ কালাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন বাবলু ও ফকরউদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চু, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ, অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, উত্তর জেলার যুগ্ম আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট এম এ হান্নান খান, এ কে এম মাহবুবুল আলম, শামীম আজাদ, দক্ষিণ জেলা যুগ্ম আহŸায়ক আখতারুজ্জামান বাচ্চু উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এবং জ্বালানি তেল, চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আওয়ামী পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিএনপির ৬ নেতাকর্মী হত্যা, হামলা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসুচীর অংশ হিসেবে ময়মনসিংহে এই বিভাগীয় গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ সফল করতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নগর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ, মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করছে।

এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগ বিএনপির নৈরাজ্যে প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। শনিবার একই স্থানে জেলা আওয়ামী লীগ অনুরূপ কর্মসুচী ঘোষনা করেছে। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেছেন, বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা জনগনের জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হলে প্রতিহত করা হবে।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের জন্য সকল ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। বিএনপি নেতাকর্মীদের লাঠিসোটা নিয়ে সমাবেশে না আসতে আহবান জানান তিনি।