এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মারাত্মক আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর মাঝে পতিত হয়েছেন রাজবাড়ীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এএসআই মোঃ নুরুজ্জামান চৌধুরী (৪০)। তিনি মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। এ ঘটনায় শনিবার সকালে রাজবাড়ী থানায় ৩ জন কিশোরের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ওই তিন জন কিশোরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

রাজবাড়ীর কতিপয় অভিভাবক সাম্প্রতিক সময়ে রাজবাড়ী জেলার প্রায় সর্বত্র কিশোরদের হাতে ভারী ও দামি মোটরসাইকেল তুলে দিয়েছেন। আর ওই সব মোটরসাইকেল পেয়ে বেপরোয়া গতিতে চালনা করছে কিশোররা।

দূর্ঘটনার পর অনেক সময় মামলা হলেও বিভিন্ন মহলের চাপে কম্প্রোমাইজ করে ঘাতকরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।

ওই মামলার বাদী ও রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ তানভীর হোসেন খান জানিয়েছেন, গত শুক্রবার বিকালে জেলা কার্যালয়ে কাজ শেষে পায়ে হেঁটে নিজ বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন এএসআই মোঃ নুরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি জেলা শহরের প্রধান সড়কের জেলা ও দায়রা জজের বাস ভবনের সামনে পৌঁছতেই চালকসহ তিন কিশোর একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল পেছন থেকে এএসআই মোঃ নুরুজ্জামান চৌধুরীকে ধাক্কা দেয়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন এএসআই মোঃ নুরুজ্জামান চৌধুরী।

স্থানীয়রা ওই তিন জন কিশোরকে আটক করার পাশাপাশি আহত নুরুজ্জামানকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধিন রয়েছেন নুরুজ্জামান। তবে তার শাররীক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।

জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলা শহরে বেশ কিছু দিন ধরে বেপরোয়াগতিতে কিশোররা মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছে। যাদের নেই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স। দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোয় অহরহ ঘটছে দূর্ঘটনা।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিশোরদের চালনার দ্রুতগতির মোটরসাইকেল আটক করা হলে কোন কোন সময় তাদের বিব্রতকর অবস্থার শিকার হতে হয়। দেখা যায় অধিকাংশ জেলা শহরের পরিচিত মানুষের সন্তান।

জেলা ট্রিফিক পুলিশের টিআই তারক চন্দ্র পাল জানিয়েছেন, তারা নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল আটক ও জরিমানা করে আসছেন। ওই সব অভিযান চলাকালে কোন কোন সময় কিশোরাও আটক হয়ে থাকে। মূলত ওই সব কিশোরের চাইতে তাদের অভিভাকরা এ জন্য বেশি দায়ি। ফলে তারা অভিভাবকদের সচেতন করার চেষ্টা করছেন। যাতে ভাড়ি ও দ্রুতগতির মোটরসাইকেল কোনভাবেই যেন কিশোরদের হাতে তুলে না দেয়।