মেহেরপুর প্রতিনিধি : উৎসবমুখর পরিবেশে মেহেরপুরে একটি পৌরসভা সহ চারটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রথমবার ইভিএম-এ ভোট প্রদানে ভোটারদের মধ্যে বেশ ভীতি কাজ করেছে। ভীতি এবং ঠিকমত বুঝতে না পারার কারণে ভোট গ্রহণের বিলম্ব হয়েছে। ভোট প্রদানের পর অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করলেও কেউ কেউ বিপরীত প্রতিক্রিয়াও জানিয়ছেন।

শেখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বের হওয়ার সময় ইভিএম সম্পর্কে জানতে চাইলে ভোটার সুফিয়া জানান, প্রথমে একটির সাদা বাটনে, তারপর আরেকটির সাদা বাটনে, তারপর একটি সাদা বাটনে এরপরে একটি সবুজ বাটনে টিপ দিলাম। তারপর কি হলো বুঝতে পারলামনা। ভোটতো দিলাম, যা হয় হোক। বড় বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার শহিদুল ইসলাম জানান, গোপন কক্ষে আলো স্বল্পতার কারণে ইভিএম মেশিনে প্রতীক দেখতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এ কারণে একজন ভোটারের ভোট দিতে সময় লেগেছে বেশি।


ভোট কারচুপির অভিযোগে আটক ইউপি সদস্য

শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল মান্নান জানান, এবারই প্রথম ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। অনেক ভোটারের ইভিএমে ভোটদানের পদ্ধতি বুঝতে সমস্যা হয়েছে। এ কারণে ভোট গ্রহণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এ ছাড়া তার কেন্দ্রের একটি বুথের দরজা একটি হওয়ায় ভোট গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবেশ সম্পর্কে পৌর শহরের পৌর ঈদগাহ পাড়ার বাসিন্দা আলেয়া খাতুন, মক্কর আলী, সুরাতন বলেন, এবারে নির্বাচনের পরিবেশ খুব ভালো। সবাই নিজের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পেরেছে। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব সহ প্রশাসনের লোকেরা বেশ তৎপর ছিল।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান জানান, এবার চমৎকার পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের লোকজন সর্বদা তৎপর ছিল।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু আনসার বলেন, পৌরসভা ও ইউপি দুই নির্বাচনেরই পরিবেশ ভালো ছিল। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।


ভোট প্রদান শেষে ছেলের সাথে লাঠি হাতে ফিরছেন এক বৃদ্ধ

মেহেরপুরে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৩৪ হাজার ৭৮৪ জন ভোটার। মোট ২০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৫ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৩ প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছেন। অন্যদিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি, বারাদী, পিরোজপুর ও শ্যামপুর ইউপিতে নারী সদস্য পদে ৫৩ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ১৯১ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন।

এদিকে বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন সময়ে নৌকা’র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোমিনুল ইসলামের পক্ষে বুথের মধ্যে অবস্থান করে ভোট চাওয়ার অপরাধে গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের নারী আসনের ইউপি সদস্য সুফিয়া খাতুন কে আটক করে পুলিশ। কলাইডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।