কক্সবাজার অফিস : চাঞ্চল্যকর মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার পঞ্চম দফায় সাক্ষ্য গ্রহণের প্রথম দিন আজ রোববার মোট ৭ সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহন এবং পরে আসামীদের পক্ষে জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল এর আদালতে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে।

রোববার যাদের জবানবন্দি ও জেরা করা হয়,তারা হচ্ছেন- ,টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং এর লম্বাবিলের জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেবী বেগম,সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ মুনতাসীর আরেফিন, সার্জেন্ট মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন, কর্পোরাল নুর মোহাম্মদ, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সৈয়দ মঈন, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবু জাফর এবং লেন্স কর্পোরাল মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

এরমধ্যে সাক্ষী বেবী বেগমের আংশিক জবানবন্দি গত ২৯ সেপ্টেম্বর নেয়া হয়েছিল।

এ নিয়ে মোট ২৬ জন সাক্ষী এই মামলায় আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। রাষ্ট্র পক্ষে মামলাটির আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মোজাফফর আহমদ হেলালী, এপিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ সাক্ষীদের জবানবন্দী গ্রহণ করেন।

এ সময় বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট ফারহানা কবির চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সৈয়দুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এসমিকা সুলতানা প্রমুখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, আসামীদের পক্ষে আদালতে অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, অ্যাডভোকেট দিলীপ কুমার দাশ, অ্যাডভোকেট শামশুল আলম, অ্যাডভোকেট মমতাজ আহমদ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাকারিয়া, অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ, অ্যাডভোকেট এম.এ বারী, অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা, অ্যাডভোকেট ওসমান সরওয়ার শাহীন, অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন শিমুল, অ্যাডভোকেট ইফতেখার মাহমুদ সাক্ষীদের জেরা করেন।

পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, আজ রোববার ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিলো। সময়ের অভাবে বাকী সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে পারেননি। কাল সোমবার ও মঙ্গলবার একটানা সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, চার দফায় এর আগে আরো মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করা হয়। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সেরেস্তাদার এম. নুরুল কবির জানান, রোববার আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সোমবার চার্জশীটের ৪০ থেকে ৪৯ নম্বর এবং মঙ্গলবার ৫০ থেকে ৫৯ নম্বর সাক্ষীকে সমন দেওয়া হয়েছে।

এপিপি ও কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ জানান, সাক্ষীরা যথারীতি আদালতে উপস্থিত থাকলেও আসামীদের পক্ষে দীর্ঘ জেরার কারণে সমন দেওয়া সকল সাক্ষীদের সাক্ষ্য নির্ধারিত দিনে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

সাক্ষ্য গ্রহণকালে মামলার ১৫ জন আসামী বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া।

কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিনকে যথারীতি হাজির করা হয়।

গত ২৩ আগস্ট সকালে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল এর আদালতে মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক এ বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

হত্যার পাঁচদিনের মাথায় ৫ আগস্ট সিনহার তাঁর বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষী সহ আলোচিত মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকান্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।