খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : ইমান অর্থ বিশ্বাস। মুমিন মানে বিশ্বাসী। তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতে বিশ্বাসীকে মুমিন বলা হয়। ইসলাম মানে আনুগত্য, মুসলিম অর্থ অনুগত ব্যক্তি, যিনি ইমানের সঙ্গে নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত এবং আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর যাবতীয় আদেশ-নিষেধ মেনে চলেন।

মুমিন ও মুসলিম জন্মগত ও বংশীয় পরিচয় নয়, বিশ্বাস ও কর্মে তা অর্জন করতে হয়। কোরআন ও হাদিসে প্রকৃত মুমিনের পরিচয় ও সফল মুমিনের গুণাবলি বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র কুরআনের সূরা তওবা’তে (আয়াত-১১২) মুমিনের ৮টি গুণাবলীর কথা বলা হয়েছে। যথাঃ
১) তওবাকারী, ২) এবাদতকারী, ৩) শোকর গোযারকারী, ৪) সম্পর্কচ্ছেদকারী (দুনিয়ার সাথে), ৫) রুকু ও সিজদা আদায়কারী, ৬) সৎকাজের আদেশ দানকারী, ৭) মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং ৮) আল্লাহর দেওয়া সীমা সমূহের হেফাযতকারী।

আল্লাহ বলেন, “তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযারকারী, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে”। -সুরা তওবা : আয়াত-১১২।

পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবা, সুরা মুমিনুন ও সূরা আহযাবে মুমিনের আরো গুণাবলীর কথা উল্লেখ আছে। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এ গুণাবলীগুলোই বারবার আলোচনা করা হয়েছে। তাহলে জেনে নেয়া যাক একজন মুমিনের কি কি গুণাবলী থাকা আবশ্যক:

“নিঃশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ, ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ, ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোযা পালনকারী পুরষ, রোযা পালনকারী নারী, যৌনাংগ হেফাযতকারী পুরুষ, যৌনাংগ হেফাযতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিকরকারী পুরুষ ও যিকরকারী নারী- তাদের জন্যে আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরষ্কার”। -সুরা আহযাব : আয়াত-৩৫।

“মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়ী-নম্র; যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত, যারা যাকাত দান করে থাকে এবং যারা নিজেদের যৌনাংগকে সংযত রাখে, যারা আমানত ও অংগীকার সম্পর্কে সাবধান থাকে এবং যারা তাদের নামায সমূহের খবর রাখে”। -সুরা মুমিনুন : আয়াতঃ ১-৯।

“আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহতাআলা দয়া করবেন”। -সুরা তওবাঃ আয়াত-৭১।

আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়েত দিন এবং মাফ করুন। আমীন।