এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : এই অনুষ্ঠান থেকে ওই অনুষ্ঠান, একটি মাহফিল থেকে আরেকটি মাহফিল, একটি খেলা থেকে আরেকটি খেলা এভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মিষ্টি পানের খিলি বিক্রি করে সংসার চালান মোহাম্মদ ইউনুস।

তবে শীতের মৌসুমে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বিভিন্ন মাদরাসা, মসজিদ ও সামাজিক, ধর্মীয় সংগঠন আয়োজিত বিভিন্ন মাহফিলে পান বিক্রি করে থাকেন তিনি।

ইউনুসের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন হলে তার ব্যবসার স্থানের নির্দিষ্ট কোন কোন পরিধি নেই। যেখানে মাহফিলের খবর পান সেখানে তিনি ছুটে যান।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) রাতে মিরসরাই উপজেলার নয়দুয়ারিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে এসে রাস্তার পাশে বসে তাকে পান বিক্রি করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনুসের মিষ্টি পানের দোকান ঘিরে মানুষের জটলা। সবাই তার বানানো মিষ্টি পান নিচ্ছেন। আবার অনেকে বাড়ির জন্যও মিষ্টি পানের খিলি কিনে নিচ্ছেন। তার বানানো পানে বেশ কয়েক প্রকারের উপকরণ দেওয়া হয়। যেমন কয়েক ধরনের মসল্লা, আপেল, ইন্ডিয়ান মোরব্বা, জেলি, খেঁজুর, নারিকেল, সুপারি সহ প্রায় ১০ থেকে ১২টি উপকরণ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রতিটি পান বিক্রি করছেন ১০ টাকা। তবে কেউ যদি আরো স্পেশাল করে খেতে চায় তার দাম রাখা হয় ২০ টাকা।

পান বিক্রেতা মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মিষ্টি পানের খিলি বিক্রি করে আমার সংসার চলে যাচ্ছে। আমার দুই ছেলে তিন মেয়ে রয়েছে। তাদের পড়ালেখার খরচও চলছে পান বিক্রির টাকায়। জনসভা, ফুটবল, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, যে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে পান বিক্রি করে থাকি। বিশেষ করে মাহফিলে পান বিক্রি করতে আমার বেশি ভালো লাগে। মাহফিলে ওয়াজও শুনলাম, পাশাপাশি ব্যবসাও হলো। আমি চট্টগ্রাম শহর, শহরের বাইরে, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী সহ বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে গিয়ে পান বিক্রি করে থাকি।

তিনি আরো বলেন, দেশজুড়ে মহেশখালীর মিষ্টি পানের বেশ কদর রয়েছে। সবাই তো এই মিষ্টি পান পায় না। তাই আমি মহেশখালীর পান বিক্রি করে থাকি। আলহামদুলিল্লাহ একটি অনুষ্ঠানে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার খিলি পান বিক্রি হয়। আমি প্রায় ১০ বছর ধরে এই পান ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছি।

ইউনুস থেকে পান ক্রয় করা স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা সাধারণত মিষ্টি পান এখানে পাই না। আজকে ইউনুস ভাই থেকে মিষ্টি পান কিনেছি। উনার বিভিন্ন ধরনের আইটেম দিয়ে তৈরি করা পান অনেক সুস্বাধু।