নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রায় ত্রিশ মিনিটের ব্যবধানে সাতটি গরুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১৩ মে) রাতে মির্জাপুর পৌসভার এলাকার ৭নং ওয়ার্ড পাহাড়পুর গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকার খামারিদের মধ্যে ও উপজেলার অন্যান্য খামারিদের মাঝেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, প্রবাসী আমিনুর রহমানের স্ত্রী ইলা বেগম বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পাঁচবছর আগে নিজ বাড়িতে একটি গরুর খামার করেন। তিনি নিজেই ঘাস রোপণ করাসহ কেটে এনে গরুগুলোকে খাওয়াতেন। খামারে দুধের গাভীসহ নয়টি গরু ছিল। প্রতিবছর এই খামার থেকে কোরবানির ঈদের আগে ৪/৫ টি ষাঁড় বিক্রি করেন তিনি। তিন লাখ টাকা দিয়ে দুই বছর আগে ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভী কেনেন ইলা বেগম। ওই গাভী প্রতিদিন ১৫ লিটার দুধ দিতো। সে দুধ বাজারে বিক্রি করে এতে তার সংসারের সচ্ছলতা আসে বলে জানান ইলা বেগম। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হঠাৎ দুধের গাভীটি মারা যায়। এরপর ত্রিশ মিনিটের মধ্যে একে একে একটি গর্ভবতী গাভীসহ আরও পাঁচটি ষাঁড়ের মৃত্যু হয়। একসঙ্গে সাতটি গরুর মৃত্যুতে খামারির প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি ধারনা করছেন।

মির্জাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, বৃষ্টির পরে গজানো ঘাসে নাইট্রিক অ্যাসিড থাকতে পারে। এক ধরনের ঘাস খেয়ে গরুগুলোর মৃত্যু হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানার জন্য মৃত গুরুর মাংস ঢাকায় পাঠানো হবে।

এ ব্যাপারে খামারের মালিক ইলা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পাঁচ বছর আগে খামারটি শুরু করি। খামারটিতে একটি দুধের গাভীসহ ৯টি গরু ছিল। আমার ছেলেমেয়ের মতো যত্ন নিয়ে গরুগুলো লালনপালন করতাম। ত্রিশ মিনিটের মধ্যে সাতটি গরুর মৃত্যু হওয়ায় আমি সর্বস্বান্ত হয়েছি।

মির্জাপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলী আজম খান সাংবাদিকদের বলেন, ইলা বেগমের সাতটি গরুর হঠাৎ মৃত্যুতে ওই গ্রামের অন্য খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।