এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : চার কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি বাজার। এসব বাজারে প্রতিদিন শত শত মানুষ দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্য সদাই করে থাকেন। কিন্তু দুই বাজারের সাথে পন্যমূল্যে সব সময় বেশি থাকে মিরসরাই পৌর বাজারে। বছরের পর বছর সিন্ডিকেট করে এখানকার ব্যবসায়ীরা পন্যের দাম বেশি রাখছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও কিছু করার থাকে না। অনেকটা বাধ্য হয়ে বেশি দামে পন্য ক্রয় করতে হয়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মিরসরাই পৌরবাজারে বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৭০ টাকায়। কিন্তু পৌরবাজারের সামান্য দূরত্বে মিঠাছড়া ও বড়তাকিয়া বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। কেজি প্রতি বাজার ভেদে মূল্যের এমন পার্থক্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মিরসরাই পৌরবাজারের মুরগি বিক্রেতা হারুন, বাবুল ও সাইফুল জানান, ক্রয় বেশি এছাড়া পরিবহন খরচ যুক্ত করে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। ক্রয় রশিদ দেখিয়ে বলেন, কেজি প্রতি পাইকারে কেনা ১৪৩ টাকা তাই ১৭০টাকা বিক্রি না করলে পোষায় না। এছাড়া পৌরবাজার তাই দাম একটু বেশি।

উপজেলার বড়তাকিয়া ও মিঠাছড়া বাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বয়লার মুরগির বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৫০টাকা দরে। তাদের ক্রয়ও ১৪৩ টাকা। এছাড়া অন্যান্য কাঁচা পণ্যেও মূল্যে পার্থক্য রয়েছে। উপজেলার অন্যান্য বাজারের তুলনায় ফলের কেজি প্রতি এখানে ৩০- ৫০টাকা বাড়তি থাকে। কাঁচা তরকারি, শাক, সবজি ও মাছের বাজারেও একই পার্থক্য দেখা যায়। এমন মূল্য পার্থক্যের কারনে পৌরবাজার বিমুখ হয়েছেন স্থানীয় মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। তারা একটু কম মূল্যে বাজার করতে ছুটে যান বড়তাকিয়া কিংবা মিঠাছড়া বাজারে। এতে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।

তেমনি মিরসরাই পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুর উদ্দিন। বাড়ির কাছের পৌরবাজার ফেলে বড় তাকিয়া বাজারে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌরবাজারে সব সিন্ডিকেট করে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রয় করে তাই একটু কম দামে সময় নষ্ট করে হলেও বড়তাকিয়া বাজারে আসা হয়েছে। অপর দিকে সাখাওয়াত হোসেন বাবু নামে মিরসরাই বাজারের এক দোকানিকে দেখা গেল মিঠাছড়া বাজারে। তারও একই উত্তর মিরসরাই পৌরবাজারের তুলনায় মিঠাছড়া বাজারে দাম অনেকটাই কম তাই কম দামে বাজার করতে মিঠাছড়া বাজারে আসা।

আনিস মোরশেদ নামে এক খামারীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, খারারীরা বর্তমানে বাজার মূল্য অনুযায়ী ১৪৩ থেকে ১৪৪ টাকায় পাইকারে বয়লার মুরগি বিক্রি করছে। কিন্তু উপজেলার মিরসরাই পৌরবাজার ও আবুতোরাব বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে অন্যান্য বাজারের তুলনায় বেশি দামে মুরগি বিক্রি করে।

মিরসরাই পৌরবাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা বহুবার চেষ্টা করেছি উপজেলার অন্যান্য বাজারের সাথে সমতা বজায় রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণের। কিন্তু আমাদের কথা তারা কেউ মানানে না।

এদিকে উপজলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটি নামে একটি কমিটি থাকলেও গত দশ বছরে সেটির কোন কার্যক্রম নেই।

এ ব্যাপারে ক্যাব কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, মিরসরাই উপজেলার কমিটি দীর্ঘদিন যাবত ঝিমিয়ে আছে। দায়িত্বশীলারা অনেকেই এলাকায় নেই। অনেকেই বয়সের কারনে আর আগের মতো কর্মতৎপরতা চালাতে পারেন না। তাই মিরসরাই উপজেলা কমিটিকে নতুন করে সাজাতে হবে। নতুন কমিটির সদস্যরা কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে যোগাযোগ রেখে স্থানীয় ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কাজ করবে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বলেন, আমি আসার পর থেকেই দেখছি মিরসরাই পৌরবাজারের খুবই খারাপ অবস্থা। এখানে ঢাকার চাইতেও পণ্য মুল্য বেশি। বাজার মূল্য নির্ধারিত হয় চাহিদা ও যোগানের উপর ভিত্তি করে। অপর দিকে দাম বাড়লে চাহিদা কমে দাম কমলে চাহিদা বাড়ে। কিন্তু বাজার ভারসাম্যের অর্থনৈতিক এই সূত্র এখানে ব্যর্থ। এখানে সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্তিম ভাবে পণ্য মূল্য বাড়ানো হয়। অচিরেই বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালানা করা হবে।