মিরসরাই প্রতিনিধি : মিরসরাইয়ে ফারহানা (ছদ্মনাম) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। সে উপজেলার সুফিয়া নূরীয়া ফাযিল মাদরাসার নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। স্থানীয় বখাটে ফিরোজ খান প্রকাশ মাসুম (২০) তাকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবার।

রোববার (১৫ মে) সকাল ৯টায় উপজেলার ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিম মিঠানালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফিরোজ খান একই গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে।

এদিকে অপহরণের ঘটনায় মিরসরাই থানায় ওই শিক্ষার্থীর মা অপহরণ মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলার বদলে নিখোঁজ ডায়েরী নিয়ে তাদের পাঠিয়ে দেন। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।

পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীর মা চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর আদালতে ফিরোজ উদ্দিন প্রকাশ (মাসুম)কে আসামী করে মামলা (নং-১৩৪/২০২২) দায়ের করেন।

ওই শিক্ষার্থীর মা অভিযোগ করে বলেন, বিগত ২ বছর যাবৎ বখাটে ফিরোজ খান প্রকাশ মাসুম তার মেয়েকে মাদরাসায় আসা যাওয়ার পথে উত্যক্ত করতো; প্রেমের প্রস্তাব দিতো। বাড়ির আশে পাশে দিনে রাতে অনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘুরাফেরা করতো। বাড়িতে ও পুকুর ঘাটে গোপনে অপ্রস্তুত অবস্থায় তার মেয়ের ছবি তুলে কয়েকদিন। এঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ফিরোজ খানের পিতাকে অভিযোগ করেও কোন সমাধান হয়নি।

সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল রাত ৯টায় ফারহানা প্রকৃতির ডাকে সাড়ে দিতে ঘর থেকে বের হলে ফিরোজ খান তার মুখ চেপে ধরে বাড়ির পাশ^বর্তী বাগানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে ও মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। অনেক খোঁজাখোঁজির পর মেয়েকে না পেয়ে পরের দিন সকালে ফিরোজ খানকে জিজ্ঞেস করলে সে তাকে (ফারহানাকে) রাতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার বিষয়টি জানায়।

এর আগেও একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করে। এসময় সে তার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে ২৪ এপ্রিল আমার-স্বামী সহ মিরসরাই থানায় মামলা করতে আসলে পুলিশ মামলা নেয়নি। ওইদিন মিরসরাই থানায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আতাউর মামলা না নিয়ে অভিযোগটি রেখে দিয়ে আমাদের কোর্টে গিয়ে মামলা করতে বলেন। এ ঘটনায় ওসির সাথে দেখা করলে তিনিও একই কথা বলেন।

পরবর্তীতে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর আদালতে ফিরোজ উদ্দিন প্রকাশ (মাসুম) কে আসামী করে আমি মামলা (নং-১৩৪/২০২২) দায়ের করি। আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্তের নির্দেশ দেন।

তিনি আরো বলেন, আদালতে মামলা করার পর ফিরোজ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। শনিবার (১৪ মে) রাতে সে আমাদের বাড়িতে গিয়ে তার সাথে ফারহানাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। অন্যথায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। এরপর রোববার সকাল ৯টা থেকে ফারহানাকে বাড়িতে কোথাও খুঁজে পাইনি। এঘটনায় মিরসরাই থানায় মামলা করতে আসলে পুলিশ অদৃশ্য কারণে মামলা না নিয়ে নিঁেখাজ ডায়েরী (নং-৬২৫) নেয়। মেয়েকে খুঁজে দিতে ও বখাটে ফিরোজ খানের শাস্তির জন্য তিনি আইনশৃঙ্খালা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।

মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থী ধর্ষণ কিংবা অপহরণের ঘটনা আমার জানা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আমি ব্যবস্থা নেব। অপহরণ মামলা না নিয়ে নিখোঁজ ডায়েরী নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, অভিযোগকারীদের আবার থানায় পাঠান আমি দেখবো।