মিরসরাই প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার ১৩দিন পরও সন্মানি ভাতা পায়নি নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৮ শিক্ষক। এ বিষয়ে শিক্ষকরা কয়েকবার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং কর্মকর্তার সাথে যোগযোগ করলেও কোন সুরাহা হয়নি।

জানা গেছে, নির্বাচনে দুর্গাপুর ইউনিয়নের পুর্ব দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭নং কেন্দ্রে সহকারি প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে ১৮জন শিক্ষক শিক্ষিকা দায়িত্ব পান। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাশখালী নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল আলম চিঠি দিয়ে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। ভোটের ১৩দিন পরও সন্মানি ভাতা পাননি ১৮জন সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার। দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ৭নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও পুরুষ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হওয়ায় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়নি। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার চিঠি পেয়ে কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়েছেন প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা।

নির্বাচনের ১৩দিন পরও এখনো শিক্ষকরা ভাতার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তাদের দাবি চিঠি ইস্যু করার সাথে ভাতাও জড়িত। কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হোক বা না হোক ভাতা তো নির্বাচন কমিশন বরাদ্ধ দিয়েছে। আমরা চিঠি পেয়ে না এলে তখন তো আমাদের বিরুদ্ধে কমিশন ব্যবস্থা নিতো। তারা ভাতা না পেয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। সহকারি প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা হলেন, সহকারি প্রিজাইডিং ফারহানা হক, মোতাহার উদ্দিন চৌধুরী, অর্পনা দেবী, আবু ইউসুফ, হুমায়ুন কবির। পোলিং অফিসার কালিলাল চক্রবর্তী, মেহেদী হাসান নয়ন, ফারজানা নাজনীন জেরিন, জিয়াউর রহমান, আনোয়ার হাসান, সোহেল রানা, মেহেরাজ উদ্দিন, রাশেদা আক্তার, নন্দিতা, পলি আক্তার, সাইফুল ইসলাম, নাসরিন আক্তার।

আবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মেহেদী হাসান নয়ন বলেন, আমরা ১৮জন শিক্ষক- শিক্ষিকা ১৩দিন ধরে ঘুরছি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারুক হোছাইনের সাথে আমাদের পক্ষে মিরসরাই পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন যোগাযোগ করলে তিনি কিছু সম্মানি দিবেন আশ্বাস দিয়েছেন । কখন সে সম্মানি পাবো সে নিশ্চয়তা পাচ্ছিনা আমরা।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের সাথে যোগাযোগের জন্য ফোন করা হলে রিসিভ হয়নি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সাল আলম বলেন, নির্বাচন না হলে কেন্দ্রের বরাদ্ধের টাকা খরচ করার এখতিয়ার কারো নেই। সেই টাকা চালানের মাধ্যমে রাজস্বে জমা দিতে হয়। শিক্ষকরা ভোট না হওয়ার কারনে দায়িত্বপালন না করলে ভিন্ন কোন নিয়ম নেই।