মিরসরাই প্রতিনিধি : মিরসরাইয়ে রাতের আঁধারে দেয়াল (সীমানা প্রাচীর) নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে দুটি পরিবার। মঙ্গলবার (২১ জুন) রাতে উপজেলার ১২ নং খৈয়াছরা ইউনিয়নের মসজিদিয়া ছরারকুল গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছরারকুল গ্রামের মনকাজি ভুঁইয়া বাড়ির কাজল রেখা ও মো. ভাসানীর ঘরের সামনে চলাচলের জন্য পথ না রেখে দেয়াল নির্মাণ করেছেন প্রবাসী মোশারফের মেয়ে সানজিদা। এতে করে আটকা পড়েছে ওই বাড়িতে বসবাস করা দুটি পরিবার। কেউ অসুস্থ হলে বা মারা গেলে লাশ নিয়ে বের হওয়ার কোন পথও নেই।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগি কাজল রেখা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার বিকেলে আমাদের ঘরের পাশে চলাচলের পথ বন্ধ করে মোশারফের মেয়ে সানজিদা সন্ত্রাসী ও হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ) ভাড়া করে দেয়োল নির্মাণ করছিলো। এসময় বাঁধা দিলে আমার ভাইয়ের ছেলে ভাসানী ও তার স্ত্রী সাহানাকে মারধর করে।

এরপর তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে থানায় গেলে পুলিশ তাদের কাছ থেকে মামলা না নিয়ে সানজিদার কথা শুনে উল্টো তাদের থানায় আটকে রাখে। এরপর রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী পাহারায় দেয়াল নির্মাণ করে। এসময় বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীদের হামলায় আমার বৃদ্ধ মা রাজখাতুন আহত হয়।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, পুলিশ আমার ভাইয়ের ছেলে ও তার স্ত্রীকে থানায় আটকে রেখে মোশারফের দেয়াল নির্মাণ করতে সহযোগিতা করে। এভাবে একজনের চলাচলের পথ বন্ধ করতে পারে না। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেব।

এই বিষয়ে মোশারফের মেয়ে সানজিদা আক্তার বলেন, আমাদের জায়গায় আমরা সীমানা দিয়েছি। তাদের জন্য জায়গার পশ্চিম অংশে পুকুর পাড়ে চলাচলের জায়গা রেখেছি। তাদের থানায় আটকে না রাখলে আমরা দেয়াল নির্মাণ করতে পারতাম না।

মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক সৈয়দ আহমেদ জানান, আমি উভয় পক্ষ থেকে থানায় বৈঠকে বসি। কিন্তু ভাসানী ও তার স্ত্রী বেশি উত্তেজিত হয়ে খারাফ আচরণ করায় তাদের আটকে রেখেছি। পুলিশ পাহারায় দেয়াল নির্মাণের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এই বিষয়ে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন বলেন, ওই এলাকায় জায়গা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হওয়ায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হবে এই আশংকায় ভাসানী ও তার স্ত্রীকে থানায় আটকে রেখেছি। তবে রাতে দেয়াল নির্মাণের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এখন (দুপুর ১টা) ভাসানী ও তার স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে আমি নিজে উপস্থিত থেকে চলাচলের পথের ব্যবস্থা করেছি।