মিরসরাই প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনা এলাকায় মহানগর প্রভাতী ও পর্যটকবাহী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষের ঘটনায় রেলওয়ে থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলে ১৯ দিন পর প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গঠিত তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য প্রধান হিসেবে লেভেল ক্রসিংয়ের দায়িত্বরত গেটকিপার সাদ্দাম হোসেনকে দায়ী করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থলেই মারা যাওয়া মাইক্রোবাসচালক গোলাম মোস্তফা নিরুকেও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আবুল কালামের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পাঁচ সদস্যের গঠিত তদন্ত কমিটি।

এ বিষয়ে আবুল কালাম বলেন, ‘মিরসরাইয়ের দুর্ঘটনার জন্য গেটকিপার ও মাইক্রোবাসচালককে দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে গেটকিপার সাদ্দাম হোসেনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। যেহেতু প্রতিবেদনে তাঁর গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে, সে জন্য তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ওই দুর্ঘটনায় মাইক্রোচালক মোস্তফা ঘটনাস্থলে মারা গেছেন। লেভেল ক্রসিংয়ের গেটকিপার সাদ্দাম হোসেন গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য গত ২৯ জুলাই বেলা দেড়টার দিকে খৈয়াছড়া ঝরনা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন মাইক্রোবাসের পর্যটকেরা। পরে খৈয়াছড়া এলাকায় রেল লাইনে উঠে পড়া মাইক্রোবাসটিকে দ্রুতাগামী মহানগর প্রভাতী ট্রেন টেনে হিঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ১১ জন মারা যান। পরে মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা গেছেন। দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ জনের সবাই মাইক্রোবাসের আরোহী ছিলেন। এদের সবার বাড়ি চট্টগ্রমের হাটহাজারি উপজেলায়। নিহতের মধ্যে ১১ জন বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী।