এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চলমান ‘লকডাউন’ এর মধ্যে সারা দেশে পর্যটনস্পটগুলো বন্ধ রাখার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও মিরসরাইতে তা মানা হচ্ছে না। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মিরসরাইয়ের পর্যটনস্পটগুলোতে ছিলো পর্যটকদের ঢল।

সরকারি বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ব্যাক্তি মালিকানাধীন আরশিনগর ফিউচার পার্ক ও বনবিভাগের ইজারাকৃত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মিরসরাইয়ের মহামায়া সেচ প্রকল্প পর্যটকদের বিনোদনের জন্য খোলা রেখেছে অসাধু ইজারাদারগণ। দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র মুহুরী প্রজেক্ট সেচ প্রকল্প, খইয়াছড়া ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা এসব পর্যটন স্পটগুলোতে নেই কোন রকম স্বাস্থ্যবিধি বা প্রশাসনের তদারকি।

এসব স্পট ঘুরে দেখা যায়, সরকারি ইজারাকৃত ও ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্রত্যেকটি পর্যটনস্পট বন্ধ রাখার জন্য নোটিশের মাধ্যমে নির্দেশনা জারি করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে। এসব পর্যটনস্টগুলোর মুল প্রভেশ গেইট বন্ধ। টিকেট কাউন্টারের সামনে সরকারি নির্দেশনা সাটানো রয়েছে।

পর্যটক প্রবেশের জন্য সুকৌশলে রাখা হয়েছে বিকল্প পথ। প্রশাসনের নজর এড়াতে প্রবেশ পথের মূল গেইটটি বন্ধ রেখে বিকল্প পথে অবাধে পর্যটক প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশী পর্যটক ভীড় করছে মহামায়া লেক ও আরশিনগর ফিউচার পার্কে। এখানে মানা হচ্ছে না কোন বিধি নিষেধ।

সোমবার বিকেলে মহামায়া ইকোপার্কে গিয়ে দেখা যায়, পার্কের মূল প্রবেশ পথ বন্ধ থাকলেও গেইটের পাশের ছোট একটি গেইট দিয়ে অবাধে যাতায়াত করছে পর্যটক। ইজারাদারদের দাবী পার্ক বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় পর্যটকরা তা মানতে রাজী নয়। তারা অনেকটা জোর করে পার্কে ঢুুকে পড়ছে।

মহামায়া ইকোপার্ক ইজারাদার কমিটির সদস্য কামরুল আহসান হাবিব জানান, সরকারি নির্দেশনা মেনে পার্ক বন্ধ রাখা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে স্থানীয় অনেকে গ্রামে আসাতে তারা ঘুরার জন্য পার্কে ভীড় করছে। আমাদের বাঁধার পরও অনেকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে পার্কে ডুকে পড়ে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে উপজেলার পর্যটনস্পটগুলো বন্ধ রাখার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যেসব পর্যটনস্পট নির্দেশনা মানছেনা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।