# ফলন ভালো হওয়ায় চাষীরা খুশী
# ন্যায্য মূল্য পেতে কৃষকদের থেকে ধান কেনার দাবী
# এবার ২১ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে
# ১ লাখ ৪ হাজার ১৬০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরাও খুশী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়র সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ধানের মূল্য নিয়ে কিছুটা শংকায় রয়েছেন তারা। ধানের ন্যায্য মূল্য পেতে সরকারি ভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান কেনার দাবী উঠেছে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় এ বছর ২১ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় কয়েক শত হেক্টর জমিতে বেশী চাষাবাদ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকাতে ফলনও ভালো হয়েছে।

এবার ১ লাখ ৪ হাজার ১৬০ মেট্রিকটন ধান ও ৫৯ হাজার ৪৪০ মেট্রিকটন চাউল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । তবে ধানের বাজার দর এখনো কিছুটা কম বলে স্বীকার করেছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার কাজী নুরুল আলম বলেন, এবার প্রতি আড়ি (১৬ কেজি) ২৪০ টাকা। ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু হলেও এখনো মাত্র ১০ শতাংশ ধান ঘরে উঠেছে বলে জানান তিনি।

উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমনের ভালো ফলন হয়েছে এবার। বাজারে এখনো ধানের দাম ভালই। পুরো মৌসুম আসা পর্যন্ত মূল্য না কমলে ঋণগ্রস্থ অনেক কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।

উপজেলার পূর্ব দূর্গাপুর এলাকার কৃষক আমিনুল হক বলেন, ইঁদুরে এই মৌসুমে অনেক ধান গাছ কেটে ফেলেছে। ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে উৎপাদন খরচ উঠবে না। কৃষকরা যাতে প্রকৃত মূল্য পায় সেজন্য সরকারীভাবে সরাসরি কৃষকদের থেকে ধান কেনার পাশাপাশি বাজার তদারকির দাবী জানান তিনি।

দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক এরশাদ উল্লাহ বলেন, আমি প্রায় এক একর জমিতে বিআর ২২ ধান করেছি। ইঁদুর অনেক ধান গাছ কেটে ফেলেছে। আমার খরচ হয়েছে ২৩-২৫ হাজার টাকা। ধানের ফলন ভালো হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ রাহা বলেন, এবার আমনের ফলন খুব ভাল হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত বছরের চেয়ে এবছর চাষাবাদও হয়েছে বেশী। ফাঁকে ফাঁকে হালকা বৃষ্টিপাত হওয়ায় ক্ষতিকর পোকা মাকড়ের উপদ্রব ছিলোনা। এতে করে ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আমরা আশা করছি আমন আবাদের মতো ফলনেও এবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে। আবার কৃষকদের জন্য সরকারও ন্যায্য দামে আমন সংগ্রহ করবো।