এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাল শনিবার শেষ হয়েছে। আজ রাত ১২টার পর থেকে সাগরে মাছ ধরা ফের শুরু হয়েছে। এতে উপজেলার উপকূলীয় জেলে পাড়াগুলোর পরিবারগুলোর মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নির্জীব থাকা জেলে পাড়ায় আগের চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ।

মৎস্যসহ মূল্যবান প্রাণিজ সম্পদ সুরক্ষায় গত ২০ মে থেকে আজ ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের জন্য বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। ইলিশের জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সফলতাকে অনুসরণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়ার মতো অন্য মাছও আহরণও ছিল এই নিষেধাজ্ঞার আওতায়। এছাড়া দেশের ৫টি ইলিশ প্রজনন পয়েন্টের একটি মিরসরাইয়ের উপকূলীয় সাহেরখালী এলাকা।

মিরসরাই উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় ২১২৬ জন্য নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এছাড়া চলতি বছর প্রায় ৬শ’ জন জেলে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালিন সকল নিবন্ধিত জেলেকে সরকার থেকে সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় জেলেরা সাগরে মাছ আহরণের সকল সম্পন্ন করেছে।

জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে বেকার হয়ে ছিলো উপজেলার উপকূলীয় এলাকার ২৯টি জেলেপাড়ার বাসিন্দারা। এসব পাড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে শুধু শাহেরখালীতেই আছে ৪২০ জেলে পরিবার। নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারি সহায়তা দেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

সাহেরখালী ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার হারাধন জলদাশ বলেন, মিরসরাই উপজেলায় অনেক জেলে রয়েছে। নিবন্ধিত হয়েছে কিছু সংক্ষক। যারা নিবন্ধিত হয়েছে তারা নিষেধাজ্ঞার সময় সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন। বেশির ভাগ জেলের পরিবার নিয়ে গত দুই মাস কষ্টে দিন কেটেছে।

ডোমখালী এলাকার শিমুল জলদাশ বলেন, দীর্ঘ দুই মাস পর নিষেধাজ্ঞা শেষে জলেদের কিছুটা উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও পাশাপাশি ঋণ নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। অনেকের ঋণ রয়েছে, কিন্তু দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এখন মাছ ধরে নিজেও চলতে হবে, ঋণও পরিশোধ করতে হবে। এবার অনেক আশায় নিয়ে আমরা সাগরে নামবো। কারণ গত বছর আশানুরূপ ইলিশ পাওয়া যায়নি। আশা করছি এই বছর প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ বলেন, ইলিশের প্রজননকালীন দীর্ঘ ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বর্তমানে বঙ্গোপসাগর মাছের উৎপাদন বাড়ছে। এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারলে বঙ্গোপসাগর একটি সমৃদ্ধ মৎস্য ভান্ডারে পরিণত হবে। শনিবার রাত ১২টায় ৬৫ দিনের সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলেরা প্রস্তুতি নিয়েছে। এই উপজেলায় নিবন্ধিত, নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত সহ প্রায় ৩ হাজার জেলে রয়েছেন।