মিরসরাই প্রতিনিধি : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্রে হট্টগোল, ভোটকেন্দ্রে বাঁধা প্রদান, রিটার্নিং কর্মকর্তার উপর হামলার চেষ্টার অভিযোগে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. কামরুল হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২১ নভেম্বর) উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর ভূইয়াঁর সম্মতিতে দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ আলতাফ হোসেন সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ নভেম্বর করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে ভোটার কার্যক্রমে বাধা প্রদান করেছেন এই মর্মে নির্বাচনী কেন্দ্রে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দল ও সরকারের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা হিসাবে আপনার বক্তব্য দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠন পরিপন্থী। তাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার কারনে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যকরী কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১ নং ওয়ার্ড রশিদিয়া এমদাদুল উলুম মাদরাসা ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ওইদিন আমি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ছিলাম। বাইরে হট্টগোল হয়েছে। পরে বিজিবির সহায়তায় ভেতর থেকে বের হয়ে আসি।

জানা গেছে, গত ১১ নভেম্বর করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন ৪ জন। ভোট গ্রহণ শেষে মেম্বার প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন (ফুটবল) ৭১৭ ভোট পান এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি মিজানুর রহমান (তালা) ৬২১ ভোট পেয়েছেন। ফলাফল ঘোষণা পর পর মিজানুর রহমানকে কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে দাবী করে হট্টগোল শুরু হয়।

এরপর ভোটকেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে মিজানুর রহমানের কর্মী সমর্থকরা। খবর পেয়ে কেন্দ্রে ছুটে গেলে ম্যাজিষ্ট্রেট এহসান মুরাদকেও অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট এহসান মুরাদকে উদ্ধার করে।

ভোট কেন্দ্রে হট্টগোল সৃষ্টি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মারধরের অভিযোগে করেরহাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা এ.জেড.এম শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১১ নভেম্বর মোঃ কামরুল হোসেনকে এক নং আসামী করে ১৫ জনের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পাওয়া কামরুল হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি তা মেনে নিয়েছি। এ বিষয়ে আমার কোন অনুরাগ বা অভিযোগ কোনটাই নেই। সকলকে ধৈর্য ধারণ করার বিনীত অনুরোধ রইলো। দলের নীতি নির্ধারক বৃন্দের সিদ্ধান্ত অবশ্যই সংগঠন এর ভালোর জন্যই নিয়েছেন।