এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্লাষ্টিকের ঝুঁড়ি তৈরি করে দারিদ্রতা ঘুচিয়েছে কয়েকশ পরিবার। এক সময় এই গ্রামে অনেকগুলো দরিদ্র পরিবার বাস করতো। এখন দরিদ্র নাই বললে চলে।

গ্রামের হতদরিদ্র মহিলারা প্লাষ্টিকের ঝুঁড়ি তৈরি করে দারিদ্রকে জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। আর যিনি এই কাজটি প্রথম করেছেন তিনি হলেন ওই গ্রামের সন্তান বাহাদুর সওদাগর।

মিরসরাইয়ের মেহেদীনগর গ্রামে গড়ে উঠেছে এ ঝুঁড়ি পল্লী। প্লাষ্টিকের ঝুঁড়ি তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন প্রায় কয়েকশ পরিবার। তাই বর্তমানে গ্রামটি ঝুঁড়ি পল্লী হিসেবে বেশি পরিচিত।

সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার ঝুঁড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পারুল নামে এক মহিলা বলেন, আগে অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতাম। ঠিক মতো খেতে পেতাম না। কিন্তু এখন ঝুঁড়ি তৈরি করে স্বামী সন্তান নিয়ে খুব ভালো আছি।

সামছুর নাহার নামে এক মহিলা বলেন, ঝুঁড়ি তৈরির জন্য সব ধরণের প্রয়োজনীয় উপাদান বাহাদুর ভাই সরবরাহ করেন। তাই আমাদের কোথাও যেতে হয় না। ঝুঁড়ি এই গ্রামের দরিদ্র মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। প্রতিটি ঝুঁড়ি ২শ থেকে ৩শ টাকা বিক্রি করা হয়।

এ ছাড়া সরবরাহকৃত প্লাষ্টিকের মধ্যে এক ধরণের ধাতব পদার্থ পাওয়া যায়। সেগুলো প্রতি কেজি দেড়শ টাকা বিক্রি করা হয়। আর প্লাষ্টিক থেকে ধাতব পদার্থ ছাটাই করে সংসার চালান অর্ধশতাধিক পরিবার। প্রতি কেজি ধাতব পদার্থ ছাটাইয়ে ২০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। ঝুঁড়ি তৈরির প্রথম উদ্যোক্তা বাহাদুর সওদাগর (৫৫) বলেন, ৮ বছর ধরে ঝুঁড়ি তৈরির কাজ করছি।

আগে বারইয়ারহাট বাজারে আমার একটি কুলিং কর্ণার ছিল। কিন্তু দোকানটি সড়ক ও জনপদের জায়গায় হওয়ায় তা ভেঙ্গে দেওয়া হয়। পরে কিছু দিন অস্থায়ী ভাবে কাপড়ের ব্যবসা করেছিলাম। কিন্তু ব্যবসায় লোকসান হওয়া কাপড়ের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। এরপর চট্টগ্রাম থেকে জাহাজে ব্যবহৃত প্লাষ্টিক কিনে ঝুড়ি তৈরির কাজ শুরু করলাম। প্রথমে আমি একা নিজে তৈরি করতাম। কিন্তু উৎপাদনের চেয়ে সরবরাহ বেশি হওয়ায় গ্রামের দরিদ্র মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি।

এখন এই গ্রামে ঝুঁড়ি তৈরি করে প্রায় কয়েকশ পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানের আমাদের তৈরি ঝুঁড়ি নিজ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। প্লাষ্টিক দিয়ে তৈরি বলে এখানের ঝুঁড়ি খুব মজবুত ও টেকসই।

বিশেষ করে কৃষিকাজে ও মাছের আড়তে এই ঝুঁড়ির বিপুল চাহিদা রয়েছে।

জানা যায়, বিভিন্ন এনজিও সংস্থা এই পল্লীতে গবেষণা করেছেন। এলাকাবাসী মনে করেন যদি সরকারি কোন সাহায্য সহযোগীতা পাওয়া যায় তাহলে এই পল্লীতে একটি কুঠির শিল্প স্থাপন করা সম্ভব হবে।