মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : ধর্ষণের শিকার হয়ে এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল মেয়েটি। তার ওপর আবার কথায় কথায় শুনতে হতো পাড়া-প্রতিবেশীর খোঁটা, যা বিষিয়ে তুলেছিল তাকে। ১২ বছরের নাবালিকা ষষ্ট শ্রেণীতে পড়ুয়া শিশু এসব সইতে না পেরে শেষে আত্মহননের মাধ্যমেই নিজেকে মুক্তি দিলেন।

রংপুরের মিঠাপুকুরে ধর্ষণের শিকার হওয়া ১২ বছরের নাবালিকা ষষ্ট শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে গত রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) বখাটে লাবলু মিয়া ওরফে লয়েট একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পড়ে ধর্ষণের ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। থানায় ধর্ষণের মামলা হওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বখাটে ধর্ষক লয়েটকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে জেলহাজতে রয়েছে।

কিন্তু ধর্ষণের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি মেয়েটি। ধর্ষণের শিকার হয়ে এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল ধর্ষিতা নাবালিকা ওই স্কুলছাত্রী। তার ওপর আবার কথায় কথায় শুনতে হতো পাড়া-প্রতিবেশীর খোঁটা, যা বিষিয়ে তুলেছিল তাকে। এ কারণে সে কিছুদিন আগে ভাংনী নাটাগাড়ী গ্রামে বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানেও তাকে খোঁটা দিতে থাকে আত্মীয়- স্বজনসহ প্রতিবেশীরা।

এতে সে ক্ষোভে-লজ্জায় শনিবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে এগারোটার দিকে বিষপান করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রবিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, প্রতিবেশী মতিয়ার রহমানের বখাটে ছেলে লাবলু মিয়া ওরফে লয়েট বিভিন্ন সময় মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করত। পরে মেয়েটির পরিবার বিষয়টি লয়েটের বাবা-মাকে জানায়। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে মেয়েটিকে কৌশলে একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে বখাটে লয়েট।

তখন মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে সে পালিয়ে যায়। ধর্ষণের ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

পুলিশ অভিযান চালিয়ে লয়েটকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে জেলহাজতে রয়েছে।

রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) মোঃ কামরুজ্জামান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ার পর বকাটে ধর্ষককে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।