মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : রংপুরের পীরগাছায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা-মেয়েকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পীরগাছা থানায় ১৭ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে মা-মেয়েকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করা হলে সাথে সাথে ভাইরাল হয়ে যায়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) উপজেলার পারুল ইউনিয়নের অনন্দি ধনিরাম গ্রামে মা-মেয়েকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার মা গোলাপী বেগম ও মেয়ে রাবেয়া বেগম উক্ত গ্রামের সাজাহান মিয়ার স্ত্রী ও কন্যা।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগির পরিবার সূত্রে জানা যায়, অনন্দি ধনিরাম গ্রামের সুজা মিয়ার ছেলে সাজাহান মিয়ার সাথে প্রতিবেশী গোফ্ফার মিয়ার ছেলে জিয়ারু মিয়ার জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো।

গত বৃহস্পতিবার সকালে আবারও জিয়ারু ও তার লোকজন সাজাহানের জমি দখল করে গাছ ও রাস্তা কাটতে থাকেন। এ সময় সাজাহান ও তার পরিবারের লোকজন বাঁধা দেয়। এতে জিয়ারু ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে সাজাহানের স্ত্রী গোলাপী বেগম ও মেয়ে রাবেয়া বেগমকে গাছে বেঁধে নির্যাতন চালায়। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে পীরগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করান। মা-মেয়ে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সাজাহান বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সাজাহান মিয়া জানান, প্রতিবেশী জিয়ারু ও তার লোকজন জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে আমার স্ত্রী ও মেয়েকে গাছে বেঁধে নির্যাতন চালায়। থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মা-মেয়েকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগিদের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা (ওসি তদন্ত) শুকুর মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

রংপুরের এএসপি (সি সার্কেল) আশরাফুল আলম বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।