খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : জলবায়ু বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে শুক্রবার রোম পৌঁছালেন জো বাইডেন। সেখানে তিনি দেখা করবেন পোপের সঙ্গে।

গ্লাসগোতে জলবায়ু পরিবর্তনের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। তার আগে শুক্রবার সকালে ইতালি পৌঁছালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ভ্যাটিকান সিটিতে পোপের সঙ্গে দেখা করবেন ক্যাথলিক প্রেসিডেন্ট।

এরপর তিনি বৈঠক করবেন ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। রোববার তার স্কটল্যান্ড পৌঁছানোর কথা। এবারের বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বিশ্বের গণতন্ত্র নিয়েও অন্য দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা করার কথা বাইডেনের।

জো বাইডেন হলেন আমেরিকার দ্বিতীয় ক্যাথলিক প্রেসিডেন্ট। তিনি ধর্মভীরুও বটে। ফলে ভ্যাটিকান থেকে তার সফর শুরু করার অন্য গুরুত্ব আছে। ভ্যাটিকানে পোপের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা তার। শুক্র এবং শনিবারের মধ্যে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা বাইডেনের। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হওয়ার কথা।

অস্ট্রেলিয়াকে সাবমেরিন বিক্রি নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক সাম্প্রতিককালে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্সের সঙ্গে সাবমেরিন বিক্রির ডিল চূড়ান্ত করার পর অস্ট্রেলিয়া তা ভেস্তে দিয়ে আমেরিকা এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে হাত মেলায়। যা নিয়ে বিপুল চটেছিলেন মাক্রোঁ। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া ভাষায় সমালোচনাও করা হয়েছিল। তারপর এই প্রথম বাইডেন-মাক্রোঁ আলোচনা হওয়ার কথা। সেখানে এই বিষয়টি নিয়ে একটি রফাসূত্র বার হবে বলেই কূটনীতিকদের ধারণা।

রোববার গ্লাসগো পৌঁছানোর কথা বাইডেনের। সেখানে জলবায়ু বিষয়ে আমেরিকার মতামত জানানোর জন্য একটি বড় টিম পৌঁছাবে বলে বাইডেনের অফিস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে। জলবায়ু সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অন্য দেশগুলিকে আমেরিকা চাপ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই শতাব্দীতে উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ দুই ডিগ্রির নীচে আনা কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে।

তবে পাশাপাশি গণতন্ত্র নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখতে পারেন বাইডেন। হোয়াইট হাউস সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, বাইডেন মনে করেন গোটা বিশ্বে গণতন্ত্র বিপদের মুখে এসে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় গণতান্ত্রিক সরকার ভেঙে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন গণতন্ত্র রক্ষা করা প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। বাইডেন মনে করেন, এই মুহূর্তে গণতন্ত্রই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা।

তুরস্কের সঙ্গে বৈঠক : জলবায়ু বৈঠকের মধ্যেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে বাইডেনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে। এই বৈঠকটির দিকেও তাকিয়ে আছে কূটনীতিকরা। কারণ, আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক বিষয়ে বিতর্ক চলছে তুরস্কের। বাইডেন-এরদোগান বৈঠক থেকে সে বিষয়ে কোনো সমাধানসূত্র মেলে কি না, সেটাই এখন দেখার।