যুদ্ধবিধ্বস্ত মারিউপোল নগর

খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকেই ইউক্রেনের বন্দর নগরী মারিউপোল বড় ধরনের সংকটের মুখে রয়েছে৷ সেখানে বাড়তি বিড়ম্বনা হিসেবে যোগ হয়েছে কলেরা৷

ইউক্রেনের মারিউপোলে স্বাস্থ্য পরিষেবা বিপর্যস্ত, এমনটাই জানিয়েছেন সেখানকার মেয়র ভাদিম বয়চেঙ্কো৷ জাতিসংঘ জানিয়েছে, শহরের বেশিরভাগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং বিশুদ্ধ পানির লাইন নর্দমার সঙ্গে মিশে গিয়েছে৷

ইউক্রেনের টেলিভিশেন দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে বয়চেঙ্কো বলেন, ‘‘পেটের পীড়া এবং কলেরার প্রাদুর্ভাব রয়েছে৷ আমাদের চিকিৎসকদের ধারণা, যুদ্ধের ফলে ২০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে৷ এই সংক্রমণের ফলে আরো হাজার হাজার মারিউপোলবাসীর মৃত্যু হতে পারে৷”

বয়চেঙ্কো বর্তমানে মারিউপোলে নেই৷ তার কথায়, ‘‘এই শহরটি কোয়ারেন্টিনে রয়েছে৷”

ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মারিউপোলে এখনো লাখ খানেক মানুষ রয়েছেন৷ আগে মারিউপোলে জনসংখ্যা ছিল চার লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি৷ যুদ্ধের ফলে এটি পতিতজমিতে পরিণত হয়েছে৷

গত মাসে বয়চেঙ্কো বলেছিলেন, রাশিয়ান বোমাবর্ষণে মারিউপোল শহরটি ‘মধ্যযুগীয় ঘেটো’তে পরিণত হয়েছে৷ পানীয় জল এবং পয়ঃনিষ্কাশন না থাকায় কূপের পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা৷ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷ মানবিক করিডোর স্থাপন করে বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে যেতে সাহায্য করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন৷ বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সরবরাহেরও অভাব রয়েছে এই শহরে৷

গত মাসেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মারিউপোলে কলেরার প্রাদুর্ভাব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল৷ ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, মারিউপোলে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রায় বিপর্যস্ত এবং এই শহরে কলেরার প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে৷ অধিকৃত অঞ্চলের জনগণকে ন্যূনতম পরিষেবা দিতে পারছে না রাশিয়া, এমনটাও জানায় তারা৷ কলেরা সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির কারণে হয়৷

পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গেও এটির সম্পর্ক রয়েছে৷ মৃতদেহ সংগ্রহ না করার ফলে পরিস্থিতি আরো অস্বাস্থ্যকর হয়ে গিয়েছে, এমনটাও মনে করছে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়৷

রাশিয়া অবশ্য বয়চেঙ্কোর মন্তব্য কিংবা ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য নিয়ে কিছু জানাতে রাজি হয়নি৷ তবে মস্কো জানিয়েছে, ইউক্রেনের নিরস্ত্রীকরণে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ অব্যাহত রয়েছে৷