আবু বাককার সুজন, বাগমারা : নওগাঁর মান্দায় কালিকাপুর ইউপি নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রধান শিক্ষক মহশীন আলী আহম্মেদ। নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যাপক জনসমর্থন পাওয়ায় এক প্রতিক্রিয়া তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচনে বিজয়ের আশায় তিনি তাঁর কর্মী-সমর্থক ও অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময়, গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করে এখন পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারনা।

জানা যায়, বিগত ২০০৩ সালের ইউপি নির্বাচনে প্রধান শিক্ষক মহশীন আলী আহম্মেদ আওয়ামী লীগের সমর্থনে কালিকাপুর ইউপি থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতীবন্ধকতা ও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি আর নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেননি।

তবে ইউনিয়নবাসীর দাবির মুখে এবার তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিন্দ্বীতায় মাঠে নেমেছেন।

আগামী ২৮ নভেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এই ইউপিতে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে কারিকাপুর ইউনিয়নকে একটি উন্নত ও আধুনিক মডেল ইউপিতে রুপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এখন পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারনা।

রোববার সরেজমিনে কারিকাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের তারিখ ঘোষনার পর থেকেই ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা ও বিভিন্ন উন্নয়ন ভাবনার চিত্র তুলে ধরে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহশীন আলী আহম্মেদ। নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারনাকালে ব্যাপক জনসমর্থনও অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন সহজ-সরল এই সাদা মনের মানুষণ। ব্যাপক জনসমর্থ পাওয়ার প্রেক্ষিতে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন- এবার যে জনসমর্থন ও ভোটারদে সাড়া পাচ্ছি তাতে আমার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা। এ ব্যাপারে আমি শতভাগ নিশ্চিত। এ জন্য আমি সকলের সার্বিক সহযোগীতা ও দোয়া চাই।

ইউনিয়নের বনগ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম, ছোটমুল্লুক গ্রামের কৃষক আকবর আলী ও আয়েশা বানু, চকগোবিন্দ এলাকার আমজাদ হোসেন, আব্বাছ আলী ও কাঠ মিস্ত্রী বেলাল হোসেন বলেন, তৃণমূলসহ সর্বস্তরের মানুষ এবার মহশীন আলী আহম্মেদকে চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চান। কারণ রাজনৈতিক জীবনে মহশীন আলী একজন নিরঅহংকারী এবং সহজ-সরল সাদা মনের মানুষ।

ধনী-গরীব সবাই তার কাছে সমান। কাউকেই তিনি ছোট করে দেখেন না। চকগোবিন্দ এলাকার আমজাদ হোসেন, আব্বাছ আলী ও কাঠ মিস্ত্রী বেলাল হোসেন বলেন, মহশীন আলী পেশায় একজন প্রধান শিক্ষক। অর্থাৎ তিনি নি:সন্দেহে একজন মানুষ গড়ার কারিগরি। কাজেই তাঁর মতো একজন শিক্ষক মানুষ চেয়ারম্যান হলে অবশ্যই ইউনিয়ন সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। এর আগেও তিনি এই ইউপি থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাটসহ অনেক উন্নয়ন হয়েছে এবং ইউনিয়নের মানুষ অনেক নিরাপদে ও শান্তিতে ছিলো।

এক প্রতিক্রিয়ায় মহশীন আলী আহম্মেদ বলেন- আমি এবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে সন্ত্রাস, দূর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়া শিক্ষিত ও দক্ষ সমাজ প্রতিষ্ঠা করে আধুনিক মডেল ও উন্নত ইউনিয়নে পরিনত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আর এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এবার আমি আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মাঠে নেমেছি। আশা করি জনগন এবার আমাকে নিরাশ করবেন না। বাঁকি জীবনটা আমি জনগনের পাশে থেকে তাদের সেবায় নিয়োজিত রাখতে চাই। কাজেই এ ব্যাপারে সকলের সার্বিক সহযোগীতা ও দোয়া একান্তভাবে প্রত্যাশা করেছেন তিনি।