এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁর মান্দায় ১৬ বিঘা জমিতে রোপণকৃত পাকা বোরো ধান কেটে না নেয়ায় তা জমিতেই নষ্ট হতে চলেছে। ইচ্ছেকৃতভাবে পাকার পর সময়মত কেটে ঘরে না তোলায় ধান গাছগুলো মাটিতে নুয়ে পড়েছে। বর্তমানে তাতে চারা গজিয়ে সবুজ আকার ধারণ করতে যাচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে ওই জমি থেকে অন্তত ৩০০ থেকে ৩২০ মণ ধান উৎপাদন আশা করা হলেও সময় মতো না কাটায় দেশের কাজে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রাম এলাকার মাঠে।

চাষির অভিযোগ, ওই সম্পত্তি একবছরের জন্য ইজারা (লিজ) নিয়েছেন। গত ৩০ চৈত্র লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আবেদনের পরেও চলতি বাংলা ১৪২৯ সনের জন্য ওই সম্পত্তি আদালতে মামরা বিচারাধীন থাকায় তাকে আর লিজ প্রদান করা হবে না বলে জানিয়ে দেয় । এ কারণে জমি থেকে ধান কাটছেন না তিনি।

স্থানীয়রা বলছেন, বিবাদমান সম্পত্তি নিয়ে সরকারকে বিবাদী করে মামলা করেন দুর্গাপুর গ্রামের সাহাদৎ হোসেনগংরা। মামলায় তাদের পক্ষে পরপর ৩বার রায় দেন আদালত। রায়ের আগেই ওই সম্পত্তি দুর্গাপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন গংদের লিজ প্রদান করে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু রায়ের পর ওই সম্পত্তি লিজ প্রদান বন্ধ করে দেয়া হয়।

তারা আরও বলেন, দেলোয়ার হোসেন ধান রোপণ করেছেন, তিনিই কাটবেন। ধান কেটে না নেয়ার পেছনে দেলোয়ার হোসেনের অন্য কোনো মতলব রয়েছে কিনা এনিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। তাদের দাবি জমিতে ধানগুলো নষ্ট হলে অন্তত ৩০০ মণ ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হবে আমাদের দেশ।

জমির মালিকানা দাবিদার দুর্গাপুর গ্রামের সাহাদৎ হোসেনের ভাতিজা মামুনুর রশিদ বলেন, ১৯৯৭ ও ৯৮ সালে দুটি দলিলমুলে উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের বিনয় কুমার সরকার ও বিনোদ কুমার সরকারের কাছ থেকে ৫ দশমিক ৪২ শতক জমি কবলা করেন। কিন্তু ৭২ সালে ওই সম্পত্তি ‘খ’ তফসীলভুক্ত হওয়ায় রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করা হয়। মামলায় তাদের পক্ষে আদালত রায় প্রদান করলে সরকার পক্ষ আপিল করেন। আপিলেও সরকার পক্ষের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করে আদালত।

তিনি আরও বলেন, বাংলা ১৪২৮ সনে ওই সম্পত্তি দুর্গাপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন গংদের লিজ প্রদান করে স্থানীয় প্রশাসন। রায় তাদের অনুকুলে হওয়ায় যাবতীয় কাগজপত্র ইউএনও ও এসিল্যান্ডের দপ্তরে দাখিল করা হয়। তাই চলতি বছরের জন্য লিজ প্রদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিস্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ওই সম্পত্তিতে বোরো ধান রোপণ করেন লিজ গ্রহিতা দেলোয়ার হোসেন গংরা। লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ওই সম্পত্তিতে রোপণ করা ধান কেটে নিচ্ছেন না তিনি।

ওই সম্পত্তির লিজ গ্রহিতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত ৩০ চৈত্র লিজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নবায়ন চেয়ে এসিল্যান্ড অফিসে আবেদন করি। কিন্তু আমকে নতুন করে আর কোন ডিসিআর দেয়া হয়নি। এ কারণে আমি ধান কাটতে জমিতে যায়নি। ধান কাটতে কেউ বাধা দিচ্ছেন না বলেও স্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, বিবাদমান সম্পত্তি সরকারের ‘খ’ তফসীলভুক্ত সম্পত্তি হওয়ায় এক বছর মেয়াদী লিজ প্রদান করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় লিজ প্রদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওই সম্পত্তিতে রোপণ করা বোরো ধান কেটে নেয়ার জন্য লিজ গ্রহিতা দেলোয়ার হোসেনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে ধান কেটে না নিলে তদন্ত করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।