এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁর “মান্দা এস সি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ” এ-র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কর্তৃক আত্মসাত করা টাকা ১০ মাস পর অবশেষে ফেরত পেলেন শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন থাকলেও কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগের কারণে আত্মসাত করা টাকার কথা ফাঁস হয়ে পড়ে। ‘বোর্ড থেকে ফেরত পাঠানো ফরম পূরণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অধ্যক্ষ-শিক্ষকের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রায় ১০ মাস আগে নওগাঁর মান্দা এস সি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ২০২০ সালের অটোপাশ ১৯ জন শিক্ষার্থীদের বোর্ড থেকে ফেরত পাঠানো টাকা অবশেষে হাতে পেয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সিদ্ধান্তে এইচএসসি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে বোর্ড পরীক্ষা না হওয়ায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিভাগের ৩জন, মানবিক বিভাগের ১০জন ও অনিয়মিত ৬জনসহ মোট ১৯জন পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের ১১ হাজার ৯শ ৬৫ টাকা গত ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ৮ মার্চ প্রতিষ্ঠানে আসে। ওই টাকা শিক্ষার্থীদের মাঝে ফেরত না দেয়ায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খোঁজ- খবর নিয়ে জানতে পারে যে বোর্ড কর্তৃক ফেরতকৃত টাকা সময় মতো সবাই পেলেও কেবল মাত্র তারাই পায়নি।

এ অভিযোগে বিভিন্ন দপ্তরে ও সাংবাদিকদের জানানো হয়। এ অভিযোগে সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদও প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান শিক্ষার্থীদের মাঝে ৮ জানুয়ারি সারা দিন ও ৯জানুয়ারি রাত সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজে তাদের প্রাপ্য টাকা তাদের ও তাদের পরিবারের নিকট ফেরত দেন।

টাকা ফেরত পেয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান লিমন, মেহেদী হাসান ও আল আমিন নামের তিন জন শিক্ষার্থী বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে আমাদের প্রাপ্ত টাকা আমরা হাতে পেয়েছি। ফেরত দেওয়া টাকা হাতে পেয়ে আমাদের খুব ভালো লাগছে।

এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত ১বছর আগে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এরমধ্যে ২বার আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া ও পুনরায় আবার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়।

সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি দায়িত্ব থেকে আবারো অব্যহতি দেয়া হয়েছে। বারবার দায়িত্ব দেওয়া ও ফিরিয়ে নেওয়া এবং করোনা ভাইরাসের কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে আমি ওই টাকার কথা একপর্যায়ে ভুলে যাই। বোর্ড থেকে পাঠানো টাকা আমি আত্মসাত করিনি। ওই টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা ছিল। আমার প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রাক্তন শিক্ষার্থী আমাকে ভুল বুঝে সাংবাদিকদের কাছে আমার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন । এই টাকা আমি গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিতরণ করেছি।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতিকুর রহমান বলেন, আমি এই বিষয়ে আগে জানতাম না। সংবাদ প্রকাশের পর জেনেছি। এ সংবাদ প্রকাশের পর শনিবার ও রোববার তিনি শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা পৌছে দিয়েছেন বলে শুনেছি।