এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, মান্দা (নওগাঁ) : নওগাঁর মান্দায় ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। আসন্ন ২৮ নভেম্বর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন ২২ জন। এ নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে দলীয় নেতা-কর্মী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ানোর কারণে কর্মীরাও নানাভাবে ৩/৪ ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন। ফলে তৃণমূলের একাংশের কর্মী সমর্থক বিদ্রোহী প্রার্থীর অনুসারী হয়ে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে প্রকাশ্যেই।

গ্রাম পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়াতে হচ্ছে হরহামেশাই।এতে নিজেরা নিজেদের মধ্যে নানা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে যাচ্ছেন এবং একে অপরকে নানাভাবে দোষী সাবস্ত্য করে হামলা চালিয়ে মারপিটে লিপ্ত হচ্ছেন। নিজেদের মধ্যে এ রকমভাবে কামড়াকামড়ি করার ফলে নির্বাচনে জয় নিয়ে দারুণ শঙ্কায় পড়েছেন দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া নৌকার সকল প্রার্থীরা। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন দলের পদধারী অনেক নেতা-কর্মী।

বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বলছেন, দলীয় কোন্দলের কারণে তৃণমূল থেকে যোগ্য প্রার্থীর নাম যায়নি কেন্দ্রে। নেতারা জনপ্রিয়তা যাচাই না করে নিজেদের পছন্দমত প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। আবার কোন কোন ইউনিয়নের একক প্রার্থীর নাম পাঠিয়েছে কেন্দ্রে এমন অভিযোগও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীরা জানিয়েছেন জনপ্রিয়তা যাচাই না করে শুধু সুপারিশের ভিত্তিতে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে দল। জনপ্রিয়তা নেই এমন দলীয় প্রার্থী দেয়ায় তৃণমূলের নেতা কর্মীরা মেনে নিতে পারেনি। তাই সেইসব নেতাকর্মীদের অনুরোধ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তারা ।

এ বিষয়ে একাধিক নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও ভোটাররা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। কর্মী ও ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভুল বোঝাচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এছাড়াও কয়েকটি ইউনিয়নে উপজেলার শীর্ষ নেতাদের নিকট আত্মীয়রা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন। বড় সমস্যা এখানেই। এতে করে স্বতন্ত্ররা প্রার্থীরা রয়েছেন বেশ চাঙ্গা ও সুবিধাজনক অবস্থানে। তাই নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি সুনিশ্চিত হয়ে গেছে।

অপরদিকে নির্বাচনে বিএনপি না আসাসহ স্থানীয় নানা সমীকরণের কারণে বিদ্রোহী হয়েছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। এছাড়া গতবার বিদ্রোহী হয়ে যারা চেয়ারম্যান হয়েছেন কিংবা পাশ করতে পারেননি, তারা সঙ্গত কারণে দলের মনোনয়ন পাননি। এসব বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অনেকে এবারও নির্বাচন করছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নাহিদ মোর্শেদ বাবু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বলেন, আমরা দল থেকে মনোনয়ন চাওয়া সকলের নাম অতি যত্ন সহকারে কেন্দ্র পাঠিয়েছি। দল যাচাই-বাছাই করে মনোনয়ন দিয়েছে। সেই সাথে রাগ অভিমান ভুলে বিদ্রোহী প্রার্থী না হয়ে, নৌকা প্রতীকের জন্য নির্বাচন করার আহ্বান জানান সকলকে। বিদ্রোহী করলে দলে ঠাঁই হবে না বলে জানিয়েও দেন তারা। এর পরও অনড় অবস্থানে থেকে গেছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

প্রসঙ্গত, মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আগামী ২৮ নভেম্বর।