আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর, মানিকগঞ্জ : প্রায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গাঁওয়ালী শিন্নি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের কুন্দুরিয়া গ্রামে প্রায় হাজার লোকের সমাগমে আনন্দ-উদ্দপনার মধ্যে এই গাঁওয়ালী শিন্নি অনুষ্ঠান পালন করা হয়। আজ রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এলকাবাসীর সার্বিক তদারকি ও সহায়তায় (স্থানীয় ভাষায় গাঁওয়াইল্যা শিন্নী) রান্না করা হয়।

এরপর সন্ধ্যার দিকে তা আশপাশ গ্রাম থেকে আগত মানুষজনের মাঝে বিতরন করা হয়। গ্রামের মানুষের বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে মুক্তি কামনা, সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে এই শিন্নী করা হয় বলে জানালেন স্থানীয়রা। বছরে একতার এই দিনে শিন্নী উপলক্ষে গ্রামে প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামে, গোয়ালডাঙ্গী, বড়টিয়া ইউনিয়নে দুটি স্থানে, সিংজুরী, পয়লা, বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পেঁচারকান্দা, কাউটিয়া এলাকাতেও এরকম শিন্নীর প্রচলন চলে আসছে দীর্ঘদিন যাবত।

অর্থনৈতিক অবস্থা ভেদে জনপ্রতি ২০ থেকে ৫০০ টাকা ও সব বাড়ি থেকে চাল দিয়ে উৎসবে অংশ নেন গ্রামবাসী। এই শিন্নীর আয়োজক এলাকার মানুষজন তা খান না। এটাই তাদের নিয়ম, জানালেন রাথুরা গ্রামের প্রবীণ মাতব্বর মোঃ কামাল মিয়া।

উপজেলার নালী ইউনিয়নের কুন্দরিয়া এলাকার বয়ো:বৃদ্ধ ব্যক্তি মোঃ লাল মিয়া বলেন, আমাগো বাব দাদাগো আমল থেইকা এই শিন্নী হয়। বালা, মছিবত, বিপদ আপদ, কলেরা থেইকা বাচনের লাইগা এই শিন্নী করতাম।

নয়াচর গ্রামের মোঃ দুলাল মিয়া বলেন, ‘কথিত আছে, প্রায় শত বছর আগে এই গ্রামে ডায়রিয়া-কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। অনেক মানুষ মারা যাওয়ার পর এক ফকির এ ধরনের শিন্নীর আয়োজন করার পরামর্শ দেন। উৎসব পালন শেষে গ্রামবাসী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত এই গ্রামের লোকজন প্রতি বছর একবার এইদিনে শিন্নী পালন করে আসছেন।’

স্থানীয় নালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস মধু বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমে এলাকায় সম্প্রীতি ও ভাতৃত্ব বাড়ছে। এটি এখানকার একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।