এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁয় মহাদেবপুরের চকরাজা আহম্মদিয়া দাখিল মাদরাসায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে মাদরাসার খতিয়ানভূক্ত বাঁশঝাড় থেকে দু’ দফায় এক লাখ ৬০ টাকা মূল্যের বাঁশ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। প্রথম দফায় বাঁশ কাটার ঘটনায় ওই মাদরাসার সুপার মাওলানা মোল্লা জালাল বাদি হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মাদরাসার সুপার ও মাদরাসা কমিটি’র সেক্রেটারী মাওলানা মোল্লা জালাল পূর্বের মামলার কপিও লিখিত অভিযোগসহ জানান, চকরাজা মৌজার হাল ২৭১ ও আর,এস ১২২ খতিয়ানটি (পীরপাল পাগলি সাহেব) এর পক্ষে তৎকালীন মাদরাসার সেক্রেটারী একাব্বর আলী মন্ডল ষোলআনা অংশ খতিয়ানটি পরিশুদ্ধ হওয়ার পর থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মাদরাসার কাজে ভোগ করে আসছিল।

এ ধারাবাহিকতায় ও পর্যায়ক্রমে মাদরাসার সেক্রেটারী মাদরাসার পক্ষে দেখাশোনা করে আসাকালে পূর্ব বিরোধের জেরধরে চকরাজা গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে রাসেল (৪১) ও মৃত আব্বাস আলীর ছেলে মিন্টু (৪৩) পরিকল্পিতভাবে মাদরাসাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার লক্ষে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মাদরাসার বাঁশ ঝাড় থেকে ৮০ হাজার টাকা মূল্যের বাঁশ কাটে নেয়।

এ ঘটনায় নওগাঁ ৩ নং আমলী আদালতে মোট ৯ জনের নামে মাদরাসার পক্ষে বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছি জানিয়ে মাদরাসার সুপার আরো বলেন, একই কায়দায় রাসেলের নির্দেশে বুধবার ২৭ অক্টোবর আবারো মাদরাসার বাঁশঝাড় থেকে চকরাজা গ্রামের রশিদুল ইসলাম ওরফে বাবু (৪৬) সহ আরো ৩/৪ জন এবং অজ্ঞাত ২/৩ জন উপস্থিত থেকে বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটা শুরু করলে জানতে পেরে আমি ও সভাপতি হাদীউজ্জামানসহ শিক্ষকরা বাঁশঝাড়ে গিয়ে বাঁশ কাটতে নিষেধ করলেও নিষেধ অমান্য করে তারা বাঁশ কাটতে থাকলে ঘটনাটি স্থানীয় থানায় জানানো হয়।

খবর পেয়ে নওহাটা মোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁশ কাটা বন্ধ করে দেন। এসময় কর্তনকৃত আনুমানিক ৭০/৮০ হাজার টাকা মূল্যের বাঁশ শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে স্থানীয় ইউপি সদস্যর জিম্মায় রাখা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওহাটা মোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই জিয়াউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে কাটা বাঁশগুলো স্থানিয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেয়া হয়।

খবর পেয়ে সরজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে চকরাজা গ্রামের মৃত খাজির মন্ডলের ছেলে রশিদুল ইসলাম বাবু জানান, রাসেল এর নির্দেশে আমরা বাঁশগুলো কাটছি এবং বাঁশগুলো বিক্রি করে গ্রামের ৩ টি জামে মসজিদ বাঁশ বিক্রির সব টাকা ভাগ করে দেয়া হবে।

এসময় বাঁশ ক্রেতা রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার চাঁইসারা গ্রামের ইসমাইল শেখের ছেলে খাইরুল শেখ জানান, আমি প্রতি ১শ’ পিচ বাঁশ ১০ ও ১১ হাজার টাকা দরে গ্রামের রাসেল নামের এক জনের কাছে থেকে ক্রয় করেছি, মোট ৫শ’ পিচ বাঁশ নিব, যদি আরো বেশি পাকা বাঁশ থাকে সেক্ষেত্রে বেশিও নিতে পারি বলেও জানান বাঁশ ক্রেতা।

এ বিষয়ে রাসেলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যাবসায়ীক কাজে মহাদেবপুর উপজেলা সদরে যাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।